নবম পে-স্কেল কি তবে আলোর মুখ দেখছে?

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যদিও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বা আংশিক বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। যদিও এটি পে-কমিশনের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর চেয়ে কম, তবুও বর্তমান বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এটি সরকারি চাকরিজীবীদের বড় ধরনের স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বাকি বেতন ও ভাতাগুলো সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পে-কমিশনের প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এককালীন বিপুল অর্থ ছাড়ের চাপ এড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয় কিস্তিভিত্তিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর হঠাৎ কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা বা বিশেষ বেতন কাঠামো নিয়েও বর্তমানে সমান্তরাল কাজ চলছে।

আসন্ন জাতীয় বাজেটের আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি। সংগঠনটির নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও এখনো নবম পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা।

সমিতির অভিযোগ, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না আসায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই সংসার চালাতে এখন ব্যাংক ঋণ ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই দীর্ঘসূত্রতা প্রশাসনের কর্মস্পৃহা ও মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাজেট প্রণয়নের আগেই সচিব পর্যায়ের সুপারিশ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে নতুন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা সহজ হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেতন কাঠামোর আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলার চাকা সচল রাখতে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সবুজ সংকেত পেলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই নতুন পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে এই বরাদ্দ কার্যকর হলে তা সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত