তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি শি জিনপিংয়ের

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আলোচ্যসূচির শীর্ষে ছিল দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধ কমানোর বিষয়টি। গত অক্টোবরে দেশ দুটি এ বিরোধ কমাতে সম্মত হয়। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা এ সমঝোতার আওতায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি শুল্ক বাড়ানো বন্ধ রেখেছে। তবে দুই দেশের শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানালেও জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন তাইওয়ান নিয়ে মতপার্থক্য দুই দেশের সম্পর্ককে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে, এমনকি এর ফলে সংঘাতও তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যিক ইস্যু নিয়ে জিনপিং জানান, বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা ‘সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক’ হয়েছে।

তাইওয়ানে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্রস্তাব ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে জিনপিংয়ের এই মন্তব্য ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং নজিরবিহীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া আলোচনার সার সংক্ষেপে তাইওয়ান প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ নেই। ওয়াশিংটনের বিবৃতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইরান যুদ্ধের ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালিকে। সেখানে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে দুই নেতার যৌথ আকাক্সক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের তেল কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

গার্ড অব অনার, ফুল আর পতাকা নাড়ানো শিশুদের উচ্ছ্বাস সংবলিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সম্মেলনের শুরুতেই শি ট্রাম্পকে বলেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্কের লাভ গোটা দুনিয়ার। যখন আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করি, উভয় পক্ষ উপকৃত হয়; আর যখন বৈরিতায় মুখোমুখি হই, দুই পক্ষই ভুক্তভোগী হয় গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত সংক্ষিপ্ত সেশনে শি এমনটাই বলেন। এর জবাবে শি’কে একজন অসাধারণ নেতা বলে অ্যাখা দেন ট্রাম্প। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দুই নেতা বৈঠকে বাণিজ্য এবং কৃষিতে সহযোগিতার আওতা আরও বিস্তৃত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তারা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেছেন। এ বৈঠকে ইরান প্রসঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে আগে থেকেই কানাঘুষা চলছিল। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে চাপ দিয়ে আলোচনায় বসাতে ওয়াশিংটন যেভাবে বেইজিংয়ের সহায়তা চাচ্ছে তা মিলবে না বলেই তাদের অনুমান।

পাশাপাশি চীনা প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে তার সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ফিরতি শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই আমন্ত্রণ জানান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শি জিনপিং ও তার স্ত্রী মাদাম পেংকে হোয়াইট হাউজে আসার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আপনাদের সফরের অপেক্ষায় রইলাম।’ পরে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ তার সম্মানে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন ট্রাম্প। ভোজসভায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা জনগণের মধ্যে ‘সমৃদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের’ প্রতি সম্মান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি অত্যন্ত বিশেষ এক সম্পর্ক। ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমাদের মধ্যে যেসব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর। এর আগে সকালের বৈঠক শেষে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত ৬০০ বছরের পুরনো মন্দির ‘টেম্পল অব হেভেন’ ঘুরে দেখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। সেখানে সাংবাদিকরা দুই নেতার বৈঠকে তাইওয়ান প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না তা জানতে চাইলেও ট্রাম্প কোনো উত্তর দেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত