চড়া সবজির বাজারে নতুন করে দাম বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের। একই সঙ্গে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতা এখনো চলছে ডিমের বাজারে। সস্তা প্রোটিনের এই উৎস হিসেবে পরিচিত এ পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। এ ছাড়া বরাবরের মতোই গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। যেখানে ৭০ থেকে ৮০ টাকার কমে সবজি পাওয়াই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বৃহস্পতিবারের বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ।
বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। জানা গেছে, প্রতি বছরই ব্যবসায়ীরা কোরবানির ঈদ ও রোজার সময়কার বাড়তি চাহিদা কেন্দ্র করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন। এবারে রোজার ঈদের সময় পেঁয়াজের উৎপাদন মৌসুম থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধিতে সফল হতে না পারলেও কোরবানি ঈদের আগে এসে এটা শুরু করছেন, যা এখন ভোক্তার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। উৎপাদন মৌসুম শেষ হওয়ার পর কৃষকের কাছে আর পেঁয়াজ থাকে। তখন এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ব্যবসায়ীদের হাতে। তখন থেকেই তারা বাজারকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। মেরুল বাড্ডার মুদি দোকান মিজান সুপার স্টোরের বিক্রেতা মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। জানা গেছে, শুধু পেঁয়াজ নয়, গত সপ্তাহ থেকেই ডিমের দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সেই সময় ১৩০-১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। এই দাম এখন আরও একটু বেড়েছে। বেশিরভাগ দোকানি প্রতি ডজন ডিম এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে কোনো কোনো দোকানিকে ১৫৫ টাকা দাম চাইতেও দেখা গেছে।
তবে মুরগির দামে স্থিতিশীলতা রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
তবে সবজির দাম আগের মতোই চড়া। বেশিরভাগ সবজিই এখন কিনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। প্রতি কেজি বেগুন কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে মানভেদে ৯০ থেকে ১২০ টাকা। এ ছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঝিঙা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়, ছোট পটোলের দাম খানিকটা সহনীয় হলেও ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বরবটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
এদিকে টিসিবির তথ্য বলছে, চিকন চালের দাম না কমলেও মাঝারি মানের ও মোটা চালের দাম কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বোরো মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে দামও কমছে।
