ঘাতক ফোরকান আত্মহত্যা করেছেন, ধারণা পুলিশের

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৮:১৮ এএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও শ্যালকসহ তিন মেয়েকে হত্যার পর ঘাতক ফোরকান মোল্লা (৪০) পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। পদ্মা সেতুর ওপর রাখা তার মোবাইল ফোনটি গত সোমবার পুলিশ উদ্ধার করেছে। তবে ফোরকান জীবিত নাকি নদীতে ডুবে মারা গেছেন, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, ফুটেজ ও ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্ত্রী-সন্তান হত্যার ঘটনার পর প্রাইভেট কারে পালিয়ে গত সোমবার ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি রেলিংয়ের ওপর ফোরকান তার মোবাইল ফোনটি রেখে ২-৩ মিনিট পর নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় তার পরনে সাদা সার্ট ও কালো প্যান্ট ছিল। পরে ওই পথে চলতে গিয়ে একই দিন সকাল পৌনে ৭টার দিকে এক ট্রাকের হেল্পার মোবাইল ফোনটি দেখে কুড়িয়ে নেয় এবং মেহেরপুর চলে যায়। পরে ওই দিনই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেহেরপুর থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর গাজীপুর থেকে পালিয়ে পদ্মা সেতু পৌঁছানোর সময়ের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর ফোরকান আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। এ বিষয়ে পদ্মা সেতুর আশপাশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। মামলাটির তদন্ত চলমান।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর এলাকার মো. আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে মো. ফোরকান মোল্লা প্রাইভেট কার চালক ছিলেন। পারিবারিকভাবে গোপালগঞ্জের পাইককান্দি গ্রামের শারমিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল তাদের মধ্যে। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে ফোরকান তার শ্যালক রসূল মোল্লাকে গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় ডেকে নিয়ে আসে। এরপর রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো একসময় খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। পরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা মো. শাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পরিদর্শক (তদন্ত) মো. যোবায়েরকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত