বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রাখতে হবে। নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রায় বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করা যাবেনা। বিচারের ক্ষেত্রে বিচারকেরা অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক সংকটে ভোগেন। বিচারকদেরকে মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে হবে।
আজ শুক্রবার(১৫ মে) বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতির প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল হক এসব কথা বলেন। প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিনিধি সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ রফিকুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতর সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক বাবর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া, অ্যাডভোকেট পিয়াস মজুমদার, অ্যাডভোকেট মায়মুনা করিম টফি, অ্যাডভোকেট অনিরুদ্ধ সরকার,অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রিমন, অ্যাডভোকেট হাসিবুজ্জামান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সাইফুল হক বলেন, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রাখতে না পারলে গণতান্ত্রিক শাসন ভিত্তি পাবেনা। সেটাই সবচেয়ে ভালো সরকার যারা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসে। সরকার তথা নির্বাহী বিভাগের সাথে পার্লামেন্ট ও বিচার বিভাগের যৌক্তিক ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক না থাকলে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্রিয়াশীল থাকতে পারে না।
সাইফুল হক বলেন, আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করে বলে অনেক ক্ষেত্রে বিচারের ক্ষেত্রে বিচারকেরা মনস্তাত্ত্বিক সংকটে ভোগেন। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে উপযুক্ত বিচার পাওয়া যাবেনা। বিচারকদেরকে অবশ্যই মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে হবে।
সাইফুল হক বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আবশ্যিকভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করতে দিতে হবে। সামাজিকভাবে প্রান্তিক ও দূর্বল মানুষেরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কিনা তার উপর বিচার বিভাগের উপর আস্থা ও তার কার্যকারিতা নির্ভর করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রায় বিচার বিভাগকে কোনভাবে রাজনৈতিক বিরোধী বা ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে ব্যবহার করা যাবেনা। তিনি বলেন, মানুষের জন্যই আইন, আইনের জন্য মানুষ নয়। তিনি আশা করেন, নতুন নির্বাচিত সরকার স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ ও জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার ব্যবস্থা সংস্কারে অচিরেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
প্রসঙ্গত, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতি ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপুকে আহ্বায়ক, অনিরুদ্ধ সরকারকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতির ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সংগঠনের খসড়া ঘোষণা ও গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়।
