এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ এএম

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে একই পদে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবে শিক্ষকরা। এ লক্ষ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করলে বদলির আবেদন করা যাবে। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর পুনরায় আবেদন করতেও সেখানে অন্তত দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

শিক্ষকেরা নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদেও আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের যেকোনো জেলায় বদলির সুযোগ থাকবে।

একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন হলে নারী প্রার্থী, বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ের একজনের বেশি শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।

বদলির পুরো কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের ওপর। বদলির পর শিক্ষকদের এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন থাকবে। তবে বদলিকে আইনি অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং এ ক্ষেত্রে কোনো টিএ-ডিএ বা ভ্রমণ ভাতা দেওয়া হবে না।

বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে বর্তমান প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন। এরপর পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, তারা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

এরই মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ প্রথমবারের মতো এক শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করেছে। আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর ডি এস আলিম মাদ্রাসায় বদলি করা হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টেলিটকের সফটওয়্যার প্রস্তুত হলেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, যতটি শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। তবে বদলি নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকার সীমার মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত