বাড়তি পশুর হাট বাড়াবে যানজট

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:১০ এএম

আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানীতে অন্তত ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বাসানোর আয়োজন চলছে। এত বিপুলসংখ্যক পশুর হাট অতীতে কখনো বসানো হয়নি। যানজট ও জনভোগান্তির কথা চিন্তা করে সব সময় পশুর হাট কমানোর চেষ্টা করা হলেও এবার তার ব্যতিক্রম। বাড়তি পশুর হাটের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যে ২৭টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি হাট বসবে। বিগত বছরগুলোতে সেই হাটের সংখ্যা ১৬ থেকে ২০-২২ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মূলত যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্যই পশুর হাট কমানোর চেষ্টা করা হতো। বাস্তবে দেখা গেছে, নানা নির্দেশনা দিয়েও হাটগুলো নির্দিষ্ট সীমানায় রাখতে পারেনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। প্রায় সব হাটই সড়ক পর্যন্ত এমনকি আবাসিক এলাকার মধ্যেও পৌঁছে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ঈদকে ঘিরে হাইওয়ে পুলিশের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মহাসড়কের পাশে কোরবানির পশুর হাট, খানখন্দ এবং কম গতির থ্রি হুইলার যানবাহনের কারণে যানজট বাড়তে পারে। এরই মধ্যেই ঢাকাসহ সারা দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। যদিও এখনো ইজারা কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেনি সংস্থাগুলো। ঢাকার অনেক হাট এলাকায় ইতিমধ্যে বাঁশ, শামিয়ানা, মাইক ও ছাউনি টানানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রস্তুত করা হচ্ছে হাসিল ঘর, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার খোলা জায়াগা ও খেলার মাঠ আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় ঈদযাত্রা কেন্দ্রিক যানজটও দেখা দিতে পারে।

আগামী শুক্রবার থেকে বিভিন্ন হাটে পশু আসা শুরু হবে এবং কোরবানির আগ পর্যন্ত হাট জমে উঠবে। তবে সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট বসার কথা রয়েছে। কিন্তু ইজারাদাররা বেশিরভাগ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই হাট বসিয়ে দিচ্ছেন। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সীমানার বাইরে বা সড়কে পশুর হাট না বসানোর জন্য যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু তার এই হুঁশিয়ারি কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা আনিসুর রহমান শাকিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের খবর নাই, কিন্তু খেলার মাঠ বন্ধ করে হাট বাসনোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। পশুর হাটের কারণে ঈদুল আজহার আগের সময়গুলো ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে থাকি। এ ধরনের অবরুদ্ধই থাকতে হয় বাসিন্দাদের।

তবে সিটি করেপারেশনগুলো বলছে, যানজট ও মানুষের ভোগান্তি লাঘবে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকি হাট বাতিলও করেছেন। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা মানুষের ভোগান্তি ও যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য আফতাবনগর ও খিলক্ষেতে দুটি হাট বাতিল করেছি। বাড়তি যেসব হাট দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এলাকার মানুষের চাহিদার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, এবার নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোথাও হাট বসতে পারবে না। যত্রতত্র বা সড়কের ওপর কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সীমানা কোন সীমানা পর্যন্ত তারা ব্যবহার করবে সেই সীমানাও আমরা টেনে দিচ্ছি। কাজেই এর বাইরে যদি বসে, তাহলে সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ক্রেতারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে পশু কিনতে পারেন সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানির বর্জ্য যাতে যত্রতত্র না ফেলা হয় সেজন্য প্রতিটি হাটে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাট ব্যবস্থাপনার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে।

দক্ষিণের ১১ হাট : ডিএসসিসি এলাকার অস্থায়ী হাটগুলো বসবে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ের খালি জায়গায়, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায়, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায়, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় এবং শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গায়। এ ছাড়া আফতাবনগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন-১ ও ২-এর খালি জায়গায়, শিকদার মেডিকেলসংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায়, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্পসংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত জায়গায়, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গায়, মোস্তমাঝি মোড়সংলগ্ন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগ আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায়ও কোরবানির পশুর হাট বসবে।

উত্তরের ১৬টি : গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি ডিএনসিসি এলাকায় বসবে আরও ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাট। ডিএনসিসির অস্থায়ী হাট বসবে মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এলাকায়, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের ১৬ বিঘা খালি জায়গায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন এলাকায়, মেরুল বাড্ডা কাঁচা বাজারসংলগ্ন খালি জায়গায় এবং পূর্ব হাজীপাড়ায় ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গায়। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গায়, উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকায়, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউসংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা সøুইসগেট পর্যন্ত এলাকায়, কাঁচকুড়া বাজারসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায়, মস্তুল চেকপোস্টসংলগ্ন পশ্চিম পাড়ায়, ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন খালি জায়গায়, বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠের জায়গা, বাড্ডা থানাধীন স্বদেশ প্রপাটিরও খালি জায়গা এবং বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় পশুর হাট বসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত