নেছারাবাদে অগ্নিকাণ্ডে ১৭ দোকান ভস্মীভূত

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি)  উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরে শুক্রবার রাত প্রায় ১১টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৎস্য শিকারের সুতা-রশির মোকাম, কীটনাশক, সার ও মোদি‌ ব্যবসায়ী ১৭টি দোকান এবং একটি দোতলা ভবন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। 

এই অগ্নিকাণ্ডে ১৭টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালামাল ভস্মীভূত হয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) ইউনিটের দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এ সময় নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানা পুলিশ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। প্রায় ৪.৩০মি: ঘণ্টা‌ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ১৭টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ব্যবসায়ী বশির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,‘আমার জীবনের সব সঞ্চয় এই দোকানে ছিল। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে দাঁড়াবো বুঝতে পারছি না।’

কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী রিয়াদ কাজী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা করে আসছি। আগুন লাগার পর কিছুই বের করতে পারিনি। কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।’

জাহাজ ও ট্রলারের দড়ি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরও একই গলিতে আগুনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারবার এমন ঘটনা ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে।’

বরিশাল বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের সহাকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা কীটনাশক দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।’

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানুষের জানমাল ও ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ারহাট বন্দরে প্রায় দুই হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছর ২৫ মে রাত পৌনে দশটায় একই বন্দরের একই গলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি দোকান পুড়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। সেই ঘটনার মাত্র ৭/৮,শত ফুট দূরত্বে আবারও আগুন লাগায় ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ব্যবসায়ী আড়ত ও দোকান গুলোর অবকাঠামো সহ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ, আধুনিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থায়ী ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত