মানুষ বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণিজগতের অন্যান্য সদস্যের বুদ্ধিমত্তা মানুষকে অবাক করে। গবেষণা বলছে, লেখা পড়তে পারা এমনকি বানান ভুল ধরার মতো দক্ষতা রয়েছে কবুতরের। আকারে ছোট হলেও তাদের মস্তিষ্কে মানুষের চেয়ে ছয়গুণ বেশি স্নায়ুকোষ রয়েছে। গণনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিস ব্যবহারের বিশেষ দক্ষ কাক। এদিকে মাছেরা নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে চিনতে পারে। অক্টোপাসের বুদ্ধি অনেকটা মানুষের মতো। মস্তিষ্ক ও আটটি শুঁড়ের অজস্র নিউরনের কারণে এটি অনেক জটিল কাজ করতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন মানুষ চিনতে পারে। বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম ডলফিন। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে। অন্যদিকে বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে কুকুরের চেয়ে এগিয়ে আছে শূকর। গবেষণায় দেখা গেছে, একাধিক নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দিচ্ছে শূকর। বিভিন্ন মানুষের ভাষার মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারে কুকুর। যেকোনো কাজে তার মালিককে সহযোগিতাও করতে পারে। তাই মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী হচ্ছে কুকুর। আবার শিম্পাঞ্জি, বোনোবোস, গরিলা এবং ওরাংওটাঙের মতো গ্রেট এপসরা মানুষের নিকটতম আত্মীয়। এরা মানুষের মতোই সহানুভূতি, মনস্তত্ত্ব, হাতিয়ার ব্যবহার, যোগাযোগ এবং সূক্ষ্ম সমস্যা সমাধান করতে পারে। যে বিষয়টি তাদের বিশেষত্ব দিয়েছে সেটি হলো, হাতিয়ার ব্যবহার ক্ষমতা এবং তা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা। বিশেষ করে, গরিলারা আবেগ চিনতে ও বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক সাড়া দিতে পারে। নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন তথ্য জানাতে তারা কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি এবং শরীরী ভঙ্গি ব্যবহার করে। তারা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। গরিলার যুগান্তকারী বিকাশ হলো, তারা নতুন প্রতীক বা সাংকেতিক ভাষা শিখতে পারে।
×
