এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি দুই-ই হৃদরোগ চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। তবে কাজ ও উদ্দেশ্য আলাদা। এনজিওগ্রাম এমন এক পরীক্ষা, যা হার্টের রক্তনালিতে কোথাও ব্লক বা সরু হয়ে গেছে কিনা, তা দেখার জন্য করা হয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এনজিওগ্রাম করা হয়, যেমন পায়ে পিএজি বা পেরিফেরাল এনজিওগ্রাম, মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে সেরিব্রাল এনজিওগ্রাম, কিডনিতে রেনাল এনজিওগ্রাম, হার্টে করনারি এনজিওগ্রাম (ঈঅএ)। প্রথমে হাত বা পায়ের রক্তনালি দিয়ে একটি পাতলা ক্যাথেটার ঢুকিয়ে বিশেষ রঙ (ডাই) প্রবেশ করানো হয়। এরপর এক্স-রে ছবির মাধ্যমে রক্ত চলাচল দেখা হয়। এর ফলে হার্টের ব্লক শনাক্ত করা যায়। বুকব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের কি সেটাও জানা এবং পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

এনজিওপ্লাস্টি হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এনজিওগ্রামে ব্লক ধরা পড়লে সেই ব্লক খুলতে এনজিওপ্লাস্টি করা হয়। একটি ছোট বেলুনযুক্ত ক্যাথেটার ব্লকের জায়গায় নিয়ে গিয়ে বেলুন ফুলানো হয়। এতে রক্তনালি প্রসারিত হয়। অনেক সময় সেখানে একটি স্টেন্ট বসানো হয়, যাতে আবার ব্লক না হয়। এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে বন্ধ বা সরু রক্তনালি খুলে দেওয়া হয়। ধমনির এ প্রশস্ততা ধরে রাখতে স্টেন বা রিং বসানো হয়। যদি দেখা যায়, ব্লকের সংখ্যা তিনের কম (অনেক সময় তিনটিও করা হয়) এবং ব্লক ৭০ শতাংশের বেশি তাহলে সেখানে এনজিওপ্লাস্টি বা বেলুনিংয়ের মাধ্যমে স্টেন বা রিং প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্টে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত