হান্টাভাইরাস সচেতনতা জরুরি

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

ডা. এম ইয়াছিন আলী

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

হান্টাভাইরাস মূলত  জেনোটিক বা প্রাণীবাহিত ভাইরাস, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় বন্যপ্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি কোনো একক ভাইরাস নয়, বরং একগুচ্ছ ভাইরাস, যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। এই ভাইরাস সাধারণত ইঁদুর, ছুঁচো এবং এ ধরনের সংক্রমিত প্রাণীর প্রস্রাব, মল ও লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। হান্টাভাইরাসের কিছু ধরন গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করে, যাকে Hantavirus Pulmonary Syndrome (HPS) বলা হয়, যা আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। অন্য কিছু ধরন কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করে, যাকে Hemorrhagic Fever with Renal Syndrome (HFRS) বলা হয়, যা ইউরোপ ও এশিয়ায় বেশি দেখা যায়।

কারণ

          সংক্রমিত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা মিশ্রিত ধুলাবালি শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করা

          দূষিত স্থান স্পর্শ করার পর মুখ, নাক বা চোখে হাত দেওয়া

          সংক্রমিত ইঁদুরের কামড়

          ইঁদুর দ্বারা দূষিত খাবার খাওয়া

          সাধারণত এই রোগ একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না, তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়।

লক্ষণ

সংক্রমণের ১ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

প্রাথমিক লক্ষণ : জ¦র, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা (বিশেষ করে ঊরু, কোমর ও পিঠে) মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঠান্ডা লাগা বা কাঁপুনি, বমি বমি ভাব ও বমি, পেট ব্যথা হতে পারে।

গুরুতর লক্ষণ : কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ অনুভব, ফুসফুসে পানি জমা, রক্তচাপ কমে যাওয়া কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। এই পর্যায়ে রোগীর জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দরকার পরে।

চিকিৎসা

বর্তমানে হান্টাভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর ওষুধ বা সর্বজনীন অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা মূলত সহায়ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করা হয়, যেমন

          অক্সিজেন থেরাপি

          সতর্কভাবে স্যালাইন (IV Fluids) প্রদান

          রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা

          শ্বাসকষ্ট বেশি হলে নিবিড় পরিচর্যা (ICU)

          কিডনি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে ডায়ালাইসিস

দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিরোধ

          বাড়ি ও কর্মস্থল ইঁদুরমুক্ত রাখা

          ইঁদুর প্রবেশের সম্ভাব্য ছিদ্র ও ফাঁক বন্ধ করা

          খাবার নিরাপদ ও পরিষ্কারভাবে সংরক্ষণ করা

          ইঁদুরের উপদ্রবযুক্ত স্থান পরিষ্কার করার সময় গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করা

          শুকনো ইঁদুরের মল সরাসরি ঝাড়ু না দিয়ে আগে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যদি ইঁদুরের সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, শরীর ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ হান্টাভাইরাস খুব দ্রুত গুরুতর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, তাই প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত