পারকিনসন্স রোগীর ভবিষ্যৎ

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

ডা. এস এম জহিরুল হক চৌধুরী

অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা।

পারকিনসন্স রোগ হলো এক প্রকারের নিউরোডিজেনারেটিভ বা স্নায়বিক রোগ। এক কথায় বলা যায়, স্নায়ু অধঃপতনজনিত রোগ। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ু ক্ষয়ে যায়।

এ রোগটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। একটি হলো পারকিনসোনিমস বা প্যারালাইসিস এজিট্যান্স বা শেকিং পালসি। যদিও এই রোগটি বহু পুরনো হলেও এর সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই অনেকেরই। সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা দেয়।

কারণ

পারকিনসন্স রোগের কারণ অজানা, তবে গবেষকরা ধারণা করেছেন জেনেটিক বা পরিবেশগত উভয় কারণেই এমন হতে পারে। তবে শরীরে ডোপামিন হ্রাস পেলেও এ রোগ হতে পারে। তা ছাড়া মস্তিষ্ক কোষের মধ্যে নির্দিষ্ট পদার্থের ক্ল্যাম্পগুলো পারকিনসন্স রোগের মাইক্রোস্কোপিক মার্কার। এগুলোকে lewy Bodies  বলা হয়। গবেষকরা মনে করেন, এই lewy Bodyগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পারকিনসন্স রোগের কারণ হিসেবে।

লক্ষণ

দুর্বলতা, মাথায় কিংবা হাতে মৃদ্যু কম্পন অনুভব করা, বিষাদগ্রস্ত, পেশির অনমনীয়তা, বিশ্রামের সময় মাথায় কিংবা হাতে মৃদু কম্পন অনুভব করা। ভারসাম্য রক্ষায় অপারগ, হাত, পা এবং সারা শরীরের মাংস পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, ধীরগতিতে চলাফেরা, বিভ্রান্ত এবং স্মৃতিশক্তির বিলোপ। এ ছাড়াও উদ্বেগ, গিলতে অসুবিধা এবং অত্যাধিক লবণাক্ততা, অতিরিক্ত ঘাম, ত্বকে সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গন্ধের অনুভূতি না থাকা।

রোগ নির্ণয়

পারকিনসন্স রোগ নির্ণয়ের নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা না থাকলেও লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি বেশ কিছু স্নায়বিক এবং শারীরিক পরীক্ষা করা যায়। ষাটোর্ধ্ব পুরুষ মানুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

চিকিৎসা

ওষুধ পারকিনসন্স রোগের নিরাময় করতে না পারলেও রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা দরকার। নিয়মিত ব্যায়াম করা। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি নেওয়া। এর ফলে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে। হাত, পা, ঘাড় ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে হবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও ভিটামিন যুক্ত সুষম খাবার গ্রহণ করা। ভিটামিন ডি ও সি-যুক্ত খাবার বা ওষুধ সেবন করুন। কারণ এটি পারকিনসন্স রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া কথা বলার সমস্যা দূর করতে স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি নেওয়া। এ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে হাঁটা, নড়াচড়া এবং কাঁপুনির সমস্যা সমাধান করা যায়। শরীরে ডোপামিন হ্রাস পাওয়ার কারণে পারকিনসন্স হয়। তাই শরীরে যেন ডোপামিন হ্রাস না পায় সেদিকে লক্ষ করা। তবেই এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পারকিনসন্স রোগীর দুই ধরনের সার্জারি করা হয়। ১.  ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন (Deep Brain Stimulation) : এই সার্জারির সময় ব্রেনের বিভিন্ন অংশে ইলেকট্রোড ইমপ্ল্যান্ট করা হয়। এর মাধ্যমে রোগ লক্ষণ কে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়।

২. পাম্প ডেলিভারড থেরাপি (Pump-delivered therapy) : এর মাধ্যমে Levodopa & Carbidopa-এর মিশ্রণ প্রেরণ করা হয়। এর জন্য অপারেশন করে ক্ষুদ্রান্তের কাছে একটি পাম্প স্থাপন করা হয়।

জেনে রাখুন

রোগীকে সবসময় সাবধানে হাঁটতে হবে এবং হাঁটার সময় পায়ের গোড়ালি আগে মাটিতে স্পর্শ করাতে হবে, হাঁটার সময় কোনো জিনিস বহন করা উচিত না এবং পেছনের দিকে পা ফেলা যাবে না। পেছনে ফেরার জন্য সম্পূর্ণ ইউ টার্ন নিতে হবে। সহজে পরা যায় ও খোলা যায় এমন জামাকাপড় পরতে হবে। বোতামের বদলে চেন দেওয়া জামাকাপড় পরা দরকার।

ইয়োগার মাধ্যমে ফ্লেক্সিব্লিটি ও মোবিলিটি বাড়াতে হবে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ও ফাভা বিনস (যা levodopa সমৃদ্ধ) খাবার তালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত