দখলে বিলীন হচ্ছে জলকদর খাল

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০২:১৮ এএম

সারা দেশে খনন কর্মসূচির মাধ্যমে খাল সংরক্ষণের উদ্যোগ চললেও বাঁশখালীতে নির্বিচারে চলছে খাল দখল। দখলে বিলীন হতে চলেছে জলকদর খাল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমি ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। খালটির দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া না হলেও এটি খনন করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রস্তাব করেছেন বলে প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

সাধনপুর এলাকার আবুল কাসেম, বাহারছড়ার নুর উদ্দিন, সরলের কামাল উদ্দিনসহ বেশ কয়জন এ প্রতিবেদককে জানান, গুরুত্বপূর্ণ জলকদর খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে গেছে। কোথাও খালের জায়গা ভরাট করে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।

এতে খালের সীমানা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে পানি দ্রুত নামতে না পারায় আশপাশের বসতবাড়ি ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

পুকুরিয়া, সাধনপুর, বাহারছড়া, কাথরিয়া, সরল, চাম্বল, শেখেরখীল হয়ে ছনুয়ায় গিয়ে সংযুক্ত হওয়া জলকদর খালটি উপজেলার শেখেরখীল ইউপির ফাঁড়ির মুখ এলাকায় বেশি দখল হচ্ছে। এখানকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা জলকদর খাল দখল করে জেটি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে  শেখেরখীল ফাঁড়ির মুখের উত্তর পাশে জলকদর খালের আনুমানিক ১৫০-২০০ ফুট প্রস্থ এবং ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে জায়গা দখল করে এই জেটিটি নির্মাণ করার অভিযোগ ওঠেছে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এই খাল দখলের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জলকদর খালের অবৈধ দখলদার তালিকা আমাদের রয়েছে। যখন সংস্কার কাজ শুরু হবে তখন উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হবে। তবে এখনো পর্যন্ত জলকদর খাল খনন কিংবা সংস্কারে কোনো বরাদ্দ কিংবা সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জলকদর খাল সংস্কারে একটা প্রপোজল দিয়েছেন, সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ছনুয়া খালের ৩ কিলোমিটার খননের একটা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত