স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চল ঘিরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এমন পরিস্থিতিতে হাওরের সমস্যা চিহ্নিত করতে স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘‘হাওরের দুর্যোগ : ‘চাষাভুষার সন্তান’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা ও করণীয়’’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি হাওরের মানুষের সংগ্রাম ও বঞ্চনার চিত্র কাছ থেকে দেখে আসছি। অথচ হাওরের মানুষ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও যুগের পর যুগ অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। তাদের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের সভাপতি রফিক মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, আলোচক হিসেবে অংশ নেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, সাংবাদিক ফারুক আহমেদ তালুকদার, মাসুদ করিম, রাজন ভট্টাচার্য ও বাহরাম খান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কায়েস আজাদ আশরাফী প্রমুখ। সেমিনারে কি-নোট উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ মোফাজ্জল।
নিজেকে কৃষকের সন্তান দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘চাষাভুষার সন্তান’ গ্রন্থে হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও দুর্যোগের বহুমাত্রিক প্রভাব প্রাঞ্জলভাবে উঠে এসেছে। এ ধরনের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
হাওরাঞ্চলে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কায়সার কামাল বলেন, লিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি হাওরের সম্পদ দখল করছে। এতে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিলের মধ্যে বড় গর্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার লিজ ব্যবস্থার কারণে মাছ ধরার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। এসব বৈষম্যের তিনি নিজেও সাক্ষী।
নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ড. আনোয়ারুল হক বলেন, আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়ে। তাই হাওর রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
লেখক ও অর্থনীতি অধ্যাপক আনু মুহম্মদ বলেছেন, হাওরের ফসল রক্ষার জন্য প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাঁধগুলো স্থায়ী হয় না। সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং নিম্নমানের কাজের ফলে অকাল বন্যায় কৃষকদের বোরো ফসল তলিয়ে যায়।
