অনলাইন জুয়ার আয় বিদেশে পাচার করত একটি চক্র

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করছে একটি চক্র। এ টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে সংঘবদ্ধ চক্রটির বিরুদ্ধে। ওই চক্রের মূলহোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ১০-১২ দিন রাজধানীর ধানম-িসহ ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান।

গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক হিসাব নম্বর ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত। পরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলুব্ধ করে গত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করত, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হতো।

সিআইডির সিপিসির সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায়, বাংলাদেশে একটি চক্র আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। এসব সাইটে জুয়াড়িরা টাকা লেনদেন করছে। এটা জানার পর ডিএমপির পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন নজরদারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। মামলায় সংশ্লিষ্ট চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চক্রের সদস্যদের শনাক্তের পর গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তারা হলেন আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম ও জসীম উদ্দীন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ মে নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান। তাদের কাছ থেকে ১৩টি মোবাইল, ২০টি সিম কার্ড, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দুটি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রসিদও জব্দ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি চক্রের একাধিক সদস্য স্বীকার করেছে, গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে প্রতিদিন দেড়-দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে। পরে তারা ওই অর্থের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।

সিআইডি-প্রধান বলেন, চলতি মাসের গত ১৬ দিনে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে এমএফএস ৮৭৯টি অ্যাকাউন্ট এবং অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৩টি ব্যাংক হিসাব বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আসামিদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ পনজি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত