অদম্য নাদিরার জন্য চাই সহযোগিতা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০২:৪৬ এএম

মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে কেবল একটি ত্রাণের ঘর। ঘরের এক কোণে ঝুলছে স্কুলব্যাগ। আর অন্য পাশে যতেœ রাখা একটি ফুটবল। সেই ফুটবলই যেন বদলে দিয়েছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর পৈকখালীর কিশোরী নাদিরা আক্তরের জীবন। দিনমজুর বাবার সংসারে অভাব তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু মাঠে নামলেই নাদিরা হয়ে ওঠে এক দুর্দান্ত ফুটবলার। পায়ের জাদুতে গোল হয়, দল জেতে আর দর্শকরা মুগ্ধ হয় তার খেলা দেখে।

সম্প্রতি পিরোজপুরে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জেলা পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে সবার নজর কাড়ে নাদিরা। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের

স্বীকৃতির পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জিতেছে সে। এখন তার লক্ষ্য, বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করা।

দুলাল আকন ও শাহিদা আক্তরের চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় নাদিরা। সে বর্তমানে ভা-ারিয়া মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা দিনমজুর হওয়ায় সংসারে অভাব লেগেই থাকে। বড় ভাই নাঈম অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে বাবার সঙ্গে কাজে নেমেছেন। মেজ ভাই নাহিদ এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট ভাই পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সঙ্গে মাঠে খেলতে ভালো লাগত নাদিরার। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল দলের হয়ে প্রথম মাঠে নামে। এরপর ধীরে ধীরে ফুটবলই হয়ে ওঠে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধ্যান।

গত ৪ মে পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের নকআউট, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে তার ছিল দাপুটে উপস্থিতি। তিন ম্যাচে একাই করেছে ছয় গোল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে একের পর এক গোল করে দর্শেকদের মুগ্ধ করে সে। তার দুর্দান্দ পারফরম্যান্সে দল ফাইনালে উঠলেও ট্রাইব্রেকারে ২-১ গোলে হেরে যায়। তবে পুরো টুর্নামেন্ট ছিল নাদিরা দখলে।

দেশ রূপান্তরকে নাদিরা জানান, “দেশের হয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলতে চাই। এর জন্য কোচিং দরকার। কিন্তু বাবার পক্ষে কোচিং করানো সম্ভব না। যদি প্রশিক্ষণের সুযোগ পাই, তাহলে অনেক দূর যেতে পারব।”

ভা-ারিয়া মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক বুশরা আক্তার জানান, ‘নাদিরা প্রতিভাবান। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তার আত্মবিশ্বাস অনেক শক্ত। প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘গ্রামের একটি মেয়ের এমন অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে। তার প্রতিভা ধরে রাখতে পৃষ্ঠপোষকতা খুবই দরকার।’

বর্তমানে নাদিরা বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ের খেলাকে সামনে রেখে পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত