হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নতুন একটি ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে ইরান। সোমবার (১৮ মে) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ এবং এ পথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান সবসময় ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ নিরাপত্তা বজায় রাখতে তেহরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাঘাই জানান, হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তাই উপকূলীয় এই দুই দেশ নিজেদেরকে সব দেশের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দায়িত্বশীল পক্ষ হিসেবে মনে করে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বৈধ। এ প্রেক্ষাপটে নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ইরানি মুখপাত্র জানান, গত সপ্তাহে মাসকাটে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে ফি আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, নিরাপদ নৌ চলাচলের নতুন ব্যবস্থাকে শুধু আর্থিক বিষয় হিসেবে দেখা মূল ইস্যু থেকে সরে যাওয়ার শামিল। তবে উপকূলীয় দেশ হিসেবে সেবা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ এমন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে চীনের সঙ্গে ইরানের কোনো মতবিরোধ নেই। নিরাপদ নৌ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও উভয় পক্ষ একমত।
তিনি আরও বলেন, গত দুই-তিন মাসে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই ইরান নিরাপদ চলাচল ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বাঘাই অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন জলদস্যুর মতো আচরণ করছে।
তার মতে, চীন একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের জাহাজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দাবি করতেই পারে।
