গ্রীষ্মের ঈদ বলেই মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে রঙিন ফুল, প্রকৃতি, পাখির রঙ এবং দেশীয় মোটিফ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সাদামাঠা নকশা আর আরামদায়ক কাপড়। সাদা, নীল, আকাশি, সবুজ, জলপাইসহ বিভিন্ন রঙের সুতি, ভয়েল, ধুপিয়ান সিল্কসহ বিভিন্ন কাপড়ে তৈরি হয়েছে এবারের ঈদের পোশাক, যাতে স্বস্তি ও আরাম দুটোই থাকে। লিখেছেন রবিউল কমল
দেশের ফ্যাশন হাউজগুলো সেজে উঠেছে নতুন পোশাক নিয়ে। কারণ বছর ঘুরে আবারও এসেছে প্রিয় উৎসব ঈদুল আজহা। আর উৎসব মানে নতুন পোশাক এ যেন বাঙালির চিরকালীন রীতি।
গ্রীষ্মে কাল বলেই হয়তো মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে রঙিন ফুল, প্রকৃতি, পাখির রঙ এবং দেশীয় মোটিফ। এর সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবহের সমন্বয়ে প্রকৃতি, আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড। ্এখন গরমের যথেষ্ট দাপট থাকছে। সাদা, নীল, আকাশি, সবুজ, জলপাইসহ বিভিন্ন রঙের সুতি, ভয়েল, ধুপিয়ান সিল্ক, জয় সিল্ক, তসর সিল্ক, সফট সিল্ক, কাতান, ভেলভেটসহ বিভিন্ন কাপড়ে তৈরি হয়েছে ঈদের পোশাক। এসব কাপড়ে নকশার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়েছে এমব্রয়ডারি, জারদৌসি, কারচুপি, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন প্রিন্টসহ মিশ্র মাধ্যম। পোশাকের প্যাটার্নেও থাকছে নতুনত্বের ছোঁয়া।
ঈদের প্রধান পোশাক পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ। এ ছাড়া ঈদে মেয়েদের শর্ট ও লং ফতুয়া, ছেলেদের শার্ট ও টি-শার্ট এনেছে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউজ। মেয়েদের শর্ট ও লং ফতুয়ায় ফুল ও লতাপাতার মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে। কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লিনেন ও ভয়েল। ছেলেদের শার্ট, টি-শার্ট ও ফতুয়ায় বৃক্ষ ও পাতার মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে।
ফ্যাশন ডিজাইনার সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘ঈদের সময় ভালোই গরম থাকবে। তাই গরমের বিষয়টি বিবেচনা করে পোশাক কিনতে হবে। এ সময় বেশি ভারী পোশাক পছন্দ না করাই ভালো। কারণ ভারী পোশাকে ঘাম বেশি হবে। ঘাম বসে আবার ঠা-া লাগার ঝুঁকি ও অস্বস্তি তৈরি হবে। এবারের ঈদে আরামদায়ক ও হালকা পোশাক বেছে নিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রেও হালকা পোশাক ভালো হবে। বেশি ভারী পোশাক পরালে গরমে অস্বস্তিতে থাকবে শিশুরা। সুতির পোশাককে প্রধান্য দিন।’
অঞ্জনস এর পরিচালক শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘কোরবানির ঈদে অঞ্জনস নিয়ে এসেছে নিত্যনতুন সব ডিজাইনের পোশাক। নতুন পোশাকে কোরবানির ঈদ আরও বেশি রঙিন করে তুলতে “সামারের রঙ গুলোকে প্রধান্য দিয়েছি” বছর জুড়েই ঋতুভিত্তিক রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নকশায় গুরুত্ব পেয়েছে একাধিক গ্রীষ্মের রঙ ও মোটিফ। এর সঙ্গে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় আবহ ও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডের সমন্বয়।’
অঞ্জনস এর ঈদ পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি, লিনেন, হাফসিল্ক, মসলিন, বেক্সি-কটনসহ বিভিন্ন ধরনের আরামদায়ক কাপড়। আর পোশাকের মোটিফকে রাঙাতে মূল রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কমলা, অলিভ, নীল, সাদা, কালো। আর সহকারী রঙ হিসেবে আছে লাল, হলুদ, অ্যাশ, মেরুন, সবুজ, অফ-হোয়াইট এবং মাল্টিকালার কম্বিনেশন। পোশাকের সৌন্দর্য বাড়াতে করা হয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট, ডিজিটালপ্রিন্ট, হাতের কাজসহ নানান ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহার।
শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, টপস, সিঙ্গেল কামিজ, পাঞ্জাবিতে বাহারি রঙে রাঙানো কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। শিশুদের জন্য সালোয়ার কামিজ, ফ্রক, টপস, পাঞ্জাবি, শার্টসহ রকমারি সব ধরনের পোশাক এনেছে। এ ছাড়া ঈদে বিশেষ আয়োজনে থাকছে বাবা-ছেলে, মা-মেয়ের ডুয়েট পোশাক, ম্যাচিং কাপল পোশাক ও পুরো পরিবারের জন্য ফ্যামিলি প্যাকেজ।
দেশের আরেক ফ্যাশন হাউজ কে-ক্রাফট বরাবরের মতোই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সব বয়সীর জন্য উৎসবভিত্তিক ও আবহাওয়া উপযোগী পোশাক এনেছে।
কে-ক্রাফটের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ সাদিক খান বলেন, ‘ঈদের পোশাকের কাট, প্যাটার্ন ও নকশা ও ফেব্রিক নির্বাচনে উৎসবে স্বস্তিতে থাকাকে প্রাধান্য দিয়েছে কে-ক্রাফট। এজন্য কটন, জর্জেট, লিনেন, সিল্ক, হাফ-সিল্ক, জয়শ্রী সিল্ক, ডুপিয়ন সিল্ক, সুইস কটন, মসলিন, হ্যান্ডলুম কটন, টু-টোন, সাটিন কাপড় বেছে নেওয়া হয়েছে। এসব পোশাকে বিভিন্ন মোটিফের বিচিত্র ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। অরনামেন্টেড ফ্লোরাল, ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল, হেরিটেজ, কাঁথা স্টিচ, ট্রাইবাল, জিওমেট্রিক, মডার্ন, ফোক, জামদানি, মুঘলিও আর্ট, কুইলট, কাশ্মীরি মোটিফ থাকছে পোশাকে।’
কে-ক্রাফটের পোশাকে রঙ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মেরুন, রেড, ক্রিমসন রেড, পেস্ট, ব্ল্যাক, টারকুইস, নেভি, অরেঞ্জ, পিচ, আপ্রিকট, কোরাল পিংক, লাইট পিংক, অ্যাশ, অলিভ, গ্রিন, অ্যাকুয়া গ্রিন, ভায়োলেট, ল্যাভেন্ডার, ব্রাউন, হোয়াইট, অফ-হোয়াইট, সিলভার, ইন্ডিগো, ম্যাজেন্টা, মাস্টার্ড ইয়েলোসহ নানান রঙ। নকশা ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, সিকুইন ওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রিন্ট ও টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
কে-ক্রাফট নারীদের জন্য ট্র্যাডিশনাল ক্ল্যাসিক, রেট্রো, ফিউশন, এ লাইন, আংরাখা, কাট বেইজডসহ নানা প্যাটার্নের সালোয়ার কামিজ, ডাবল লেয়ারড সালোয়ার কামিজ, লং-কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস, ডাবল লেয়ারড কুর্তি, টিউনিক, শ্রাগ, কাফটান, প্যান্টসহ টপস, টপস-স্কার্ট, টপস-পালাজো সেট, বিভিন্ন প্যাটার্নের প্যান্ট এনেছে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে কে-ক্রাফটে কটন, সিল্ক, হাফ-সিল্ক, মসলিন শাড়ির বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনের আয়োজন থাকছে।
ছেলেদের জন্য কে-ক্রাফটে থাকছে রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি। এ ছাড়া আছে কাট বেইজড একরঙা পাঞ্জাবি। এর সঙ্গে তারা এনেছে কাতান, সিল্ক এবং কটন কাপড়ে হালকা ও ভারী প্রিন্টের কটি। ফ্যামিলি পোশাক হিসেবে পাওয়া যাবে মা-মেয়ের ম্যাচিং সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, বাবা-ছেলের পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, কটি, শার্ট। এ ছাড়া কাপলদের জন্যও থাকছে বিশেষ পোশাক।
ঈদে বাহারি ডিজাইনের পোশাক এনেছে সারা লাইফস্টাইল। সারার পোশাকের নকশায় বেছে নেওয়া হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, ম্যানুয়াল এমব্রয়ডারি, মেশিন এমব্রয়ডারি, কারচুপি, ট্র্যাডিশনাল হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, টাই-ডাইসহ বিভিন্ন ট্র্যাডিশনাল কারুকার্য। প্রকৃতি ও ফ্যাশনের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাকের কাটিং ও প্যাটার্নে আছে ভিন্নতা। গরমের কথা বিবেচনা করে ঈদের পোশাকে কটন, সিনথেটিক, সিল্ক কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এসব পোশাকের মোটিফে।
সারা লাইফস্টাইল ছেলেদের জন্য এনেছে পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, চিনো প্যান্ট, কার্গো প্যান্ট, পায়জামা ইত্যাদি। মেয়েদের জন্য আছে সিঙ্গেল পিস কামিজ, থ্রি-পিস, আনারকলি, কুর্তি, ফ্যাশন টপস, এথনিক টপস, কাফতান, ক্যাজুয়াল শার্ট, শাড়ি ও ডেনিমের কালেকশন। ছেলে শিশুদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, কাতুয়া, ফতুয়া, টি-শার্ট, লং ও শর্ট সিøভ শার্ট, পলো টি-শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট ইত্যাদি। আর মেয়ে শিশুদের জন্য থাকছে ফ্রক সেট, থ্রি-পিস, এথনিক কুর্তি, সারারা, লেহেঙ্গা ইত্যাদি। এ ছাড়া থাকছে বাবা-ছেলের পাঞ্জাবি ও পলো শার্টের মিনিমি। প্রতিবারের মতো সারার এবার ঈদের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে পরিবারের সবার জন্য একই ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ।
