দেশের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর সেনাসদস্যরা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সংকটকালীন সেনাবাহিনী দেশের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘দেশের সেই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।’ টানা ১৮ মাস মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পরও সেনাসদস্যরা ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা ও নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে একজন সেনাসদস্যের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে ফায়ারিংয়ে দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন, যা সেনাসদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর সেনাবাহিনীর এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা সেনাসদস্যদের কাক্সিক্ষত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় সৈনিক পিয়াল ম-ল, ১৭ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ ফায়ারার; সৈনিক তানভীর হোসেন, ১০ পদাতিক ডিভিশন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার এবং সৈনিক জবা আক্তার, ২৪ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ মহিলা ফায়ারার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ফরমেশন, লজিস্টিকস্ এরিয়া, ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডন্যান্স (এমজিও); কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, কুমিল্লা এরিয়া; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সিলেট এরিয়া; সেনাসদর ও ফরমেশনসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
