ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঠেকাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের তৎপরতা আরও জোরদার করেছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে এবং ৪টি জাহাজ অচল করে দিয়েছে।
শনিবার (২৪ মে) সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে গত ছয় সপ্তাহে ১৫ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য অংশ নিয়েছেন। তবে অবরোধের মধ্যেও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২৬টি সহায়তা সামগ্রীবাহী জাহাজকে নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই অভিযানের ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি তুলে ধরে জানান, ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাকে লক্ষ্য করে এই অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এই অভিযানে ২০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মতো পরাক্রমশালী রণতরীগুলো।
মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন ইরানি বন্দরে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, তখন পাল্টা প্রতিরোধ ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরানও। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট দাবি করেছে, মার্কিন কড়াকড়ির মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের কঠোর তত্ত্বাবধান ও সুরক্ষায় ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরানও এই এলাকায় তাদের নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে অনড় রয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং কড়াকড়ি আরোপ করায় ওই অঞ্চলে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট। সারা বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো সংঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
