ভারতের পরিচালনা করা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সরকার দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে বলে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নুরিন নিয়াজি। তার দাবি, চার দিনের এই সামরিক সংঘাতে পাকিস্তান কোনো সফলতা পায়নি। বরং নিজেদের পরাজয় ও ব্যর্থতা আড়াল করতেই পাক সেনাবাহিনী কৃত্রিম ‘বিজয়ের গল্প’ প্রচার করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে নুরিন নিয়াজির এই বক্তব্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নুরিন নিয়াজি জানান, চার দিনব্যাপী চলা ওই সংঘাতকে পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে, বাস্তব পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। তার মতে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ পুরোপুরি সফল হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং জনগণের অসন্তোষ এড়াতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
পাক সেনার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার পর ইতোমধ্যে বিপাকে পড়েছেন নুরিন নিয়াজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা, আপত্তিকর এবং উসকানিমূলক’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাকে তলব করেছে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)।
উক্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দুটি চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান কর্তৃক ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গোপন বা নীরব সমঝোতা চলছিল, যার কারণেই ভারত ওই সময় সংঘাত আর সামনে বাড়ায়নি। এছাড়া, পাকিস্তান যে সংঘাতকে ‘মারকা-ই-হক’ নামে অভিহিত করে বিজয়ের দাবি করছিল, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে থেমে যায়। ট্রাম্পের মধ্যস্থতার কারণেই পাকিস্তান সে সময় সংঘাত থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। তবে এই দাবিগুলোর সপক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রদর্শন করেননি।
এদিকে নুরিন নিয়াজির এমন মন্তব্যের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর শীর্ষ নেতারা এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের চরম পরিপন্থি।