কমলাপুর থেকে সময়মতোই ছাড়ছে অধিকাংশ ট্রেন

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

বড় বিঘ্ন ছাড়াই রেলওয়ের ঈদযাত্রা চলছে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে কয়েকটি ট্রেন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হলেও অধিকাংশ ট্রেনেই কমলাপুর থেকে সময়মতোই ছেড়ে যাচ্ছে। স্টেশনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। উৎসব সামনে রেখে বাড়ি যাওয়ার এই যাত্রায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৬০ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে কমলাপুর স্টেশন দিয়ে। তবে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে অনেককেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচলে গতি কমে গিয়েছিল। কাকভেজা হয়ে অনেককে স্টেশনে আসতে দেখা গেছে। তবে পথের বিড়ম্বনা পেরিয়ে স্টেশনে এসে অনেকে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। যেন এবার আর বাড়ি ফিরতে কোনো সমস্যা হবে না।

প্রথম শ্রেণির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিগুলোতে টিকিট ছাড়া যাত্রীদের উঠতে না দিলেও দ্বিতীয় শ্রেণির সব বগিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বৃষ্টির কারণে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় কোনো ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের উঠতে দেওয়া হয়নি।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ করতে রেলওয়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি দেখা গেছে। কমলাপুর রেলওয়ে থানার পাশাপাশি স্টেশনের বাইরে শাহজাহানপুর থানা এবং স্টেশনের ভেতরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে বুথ বসানো হয়েছে।

বিকেলে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পৃথক বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঁশ দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য একমুখী রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সহকারী স্টেশন মাস্টার আশরাফুল আলম রিঙ্কু জানান, সকাল থেকে ২৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে। বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। তবে খুব বেশি দেরি না হওয়ায় যাত্রীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেনি।

তিনি জানান, রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ৩টা ৩০ মিনিটে। চট্টলা এক্সপ্রেস ২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ২০ মিনিট পরে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এসেছিলেন জুয়েল। তিনি জানান, তাদের ট্রেন ঘণ্টাখানেক বিলম্বে ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে। ট্রেন স্টেশনে এসেছে। পরিষ্কার করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

একই ট্রেনে সোনাপুর যাচ্ছেন আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, একটু দেরি হলেও রেলওয়েতে যাওয়াটা নিরাপদ। একবার ট্রেনে উঠে বসতে পারলে আর তেমন কোনো সমস্যা থাকে না।

সিল্ক সিটিতে রাজশাহী যাচ্ছিলেন আলাল। তিনি একেবারে কাকভেজা হয়ে স্টেশনে এসেছিলেন। জানতে চাইলে বলেন, বৃষ্টির মধ্যেই রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে রওনা দিয়েছেন। ট্রেন তো আর বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করবে না। এজন্য তিনি বৃষ্টি মাথায় করে স্টেশনে এসেছেন।

জানতে চাইলে কমলাপুর স্টেশনের ভেতরে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ পরিদর্শক গোলাম ফারুক জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘœই হচ্ছে। তাদের কাছে কোনো সমস্যা নিয়ে কেউ এখনো আসেননি। তবে তারা তৎপর রয়েছেন, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে।

স্বাভাবিক সময়ের বাইরে এবার ঈদেও স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে। তবে বরাবরের মতো এবারও ট্রেনের টিকিটের স্বল্পতা ছিল। ট্রেনের সব টিকিট অনলাইনে কাটা ব্যবস্থা থাকায় টিকিট কাউন্টারে কোনো ভিড় ছিল না। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে টাকা নিয়ে যাত্রীদের স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। যাত্রীদের জন্য ট্রেন ছাড়ার সময়সীমা ডিজিটাল স্ক্রিনে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত