জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

৮ দিনের কর্মসূচি  ঘোষণা বিএনপির

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৭ এএম

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ৩০ মে। এবার নানা কর্মসূচির মাধ্যমের দলের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করবে বিএনপি। এ উপলক্ষে গত ১৯ মে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির  রিজভী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কর্মসূচি পালনে যেন জনদুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।

প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করতে চলেছে দলটি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তার ছেলে তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘মহান যুগস্রষ্টা এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বীর সেনানী, সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তার স্মৃতিকে আমরা বারবার স্মরণ করি। তার স্মৃতি আমাদের কাছে সব সময় জাগরূক, দেশের মানুষের কাছে জাগরূক। তার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৮ দিনব্যাপী কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে ঈদুল আজহা পড়বে... এ জন্য কোনো অঙ্গসংগঠন যদি আলোচনা সভা দু-একদিন পরেও করে অসুবিধা নেই। তবে আমাদের কর্মসূচি ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত।’

রিজভী জানান, কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৩০ মে ভোরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এদিন বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্যেষ্ঠ নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং তারা উলামা দলের আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। পরদিন ৩১ মে বেলা ২টায় রমনার ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ এবং আলোচনা সভা করবে।

রিজভী বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের উদ্যোগে বিভিন্ন থানায় দুস্থদের মধ্যে চাল-ডালসহ ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। এছাড়া জেলা, মহানগর, উপজেলাসহ সব ইউনিটে আলোচনা সভা, দুস্থদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুনির হোসেন, তারিকুল আলম তেনজিং, মহানগর বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর এমপি, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানি এমপি, যুবদলের নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ছাত্রদলের নাসির উদ্দীন নাছির, জাসাসের হেলাল খান, জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, শ্রমিক দলের মনজুরুল ইসলাম মনজু, উলামা দলের মো. সেলিম রেজা, কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, মহিলা দলের শাহিনুর নার্গিস, কৃষক দলের রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ৭ নভেম্বর ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লবের’ পর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএসএম সায়েমের নেতৃত্বে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক দল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত