হাট ঘিরে মৌসুমি ব্যবসা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৮:০১ এএম

কয়েকদিন পরেই মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এ উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানি। ইতিমধ্যে অনেকেই পশু কিনেছেন, আবার অনেকে শেষ মুহূর্তে কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর পাশাপাশি হাটের আশপাশে গড়ে উঠতে শুরু করেছে পশুখাদ্যের অস্থায়ী ও মৌসুমি বাজার। শুধু হাট-কেন্দ্রিক নয় রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে বসেছে এসব অস্থায়ী দোকান। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা খড়, ঘাস, ভুসিসহ নানা ধরনের পশুখাদ্য সাজিয়ে বিক্রি করছেন পাড়া-মহল্লায়।

হাট এলাকায় প্রতি আঁটি কাঁচা ঘাস বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, প্রতি আঁটি খড় ১৫ থেকে ৩০ টাকা, গমের ভুসি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, খৈল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কুঁড়া ৪০ টাকা এবং কাঁঠালপাতার একটি বস্তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রংবেরঙের মালা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে পাড়া-মহল্লায় মান ও আকারভেদে মূল্য পরিবর্তন হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো পশুর কেনাবেচা পুরোপুরি জমে না ওঠায় পশু খাদ্যের বাজারে তেমন গতি আসেনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর গাবতলী, বনশ্রী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে খড় ও ঘাস বিক্রি করতে দেখা গেছে।

হাটে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকে করে গরুর পাশাপাশি গো-খাদ্যও নিয়ে এসেছেন বেপারীরা। কেউ গরুর থাকার জায়গার পাশে খড়ের স্তূপ করে রেখেছেন, আবার কেউ পানির সঙ্গে ভুসি মিশিয়ে গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

শাহজাহানপুর হাটে মেহেরপুর থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী আলী হোসেন জানান, গরুকে খাওয়ানোর জন্য ঈদের দিন পর্যন্ত বাড়ি থেকেই সঙ্গে করে এনেছেন তারা। তবে প্রয়োজনে হাটের আশপাশের দোকান থেকে খাবার কিনবেন। চাঁপাইনবাবগগঞ্জ থেকে তেজগাঁও হাটে আসা আরেক ব্যাপারী জিয়ারুল গরুকে জানান, দীর্ঘ সময় ট্রাকে করে হাটে আসা গরুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত খাবার ও পানি দিতে হয়। তাই খড়, ভুসি ও ঘাস ছাড়া হাটে থাকা সম্ভব নয়। সঙ্গে নিয়ে আসা এসব খাবার শেষ হলে ভরসা মৌসুমি দোকানগুলো ওপর।

জামালপুরের রফিকুল জানান, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে হাটে খড় বিক্রি করি। এবারও ট্রাকে করে খড় নিয়ে এসেছি। তবে এখনো বিক্রি পুরোদমে শুরু হয়নি। ক্রেতারা অনেক সময় গরুর সঙ্গে খাবার কিনে নিয়ে আসেন। হাটের পাশে এসব পশুখাদ্য একেক স্থানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা যে যেভাবে পারছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম নিচ্ছেন। তবে ক্রেতাদের এতে কোনো অভিযোগ নেই। বরং হাতের নাগালে পেয়ে তারা খুশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত