ঈদের দিন দুর্ভোগ বাড়াবে সকাল সন্ধ্যার বৃষ্টি 

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের অধিবাসীদের এবারের ঈদে দুর্ভোগ বাড়তে পারে। ঈদের দিন সকাল ও সন্ধ্যায় এই এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের মধ্যাঞ্চলে যখন এই অবস্থা তখন দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টি দুর্ভোগের শঙ্কা কম। তবে সিলেট এলাকায় আজ মঙ্গলবার রাত ও কাল বুধবার মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পর ঈদের দিন কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা শহরে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ঢাকায় এই বৃষ্টিপাত হলেও একই সময়ে সবচেয়ে বেশি হয়েছে সীতাকুন্ডে ও ফেনীতে ৭৪ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে হয়েছে ৪৫ মিলিমিটার। হঠাৎ করে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা তরিফুল নেওয়াজ কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘সাগর থেকে আসা জলীয় বাস্পের কারণে দেশজুড়েই বৃষ্টি হচ্ছে। তবে এবারের বৃষ্টি কিছুটা ব্যতিক্রম। এই সময়ের বৃষ্টির যে রুট তা পরিবর্তন হয়ে ভিন্ন রুট দিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে।

ভিন্ন রুট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসময় সাধারনত দেশের রংপুর দিনাজপুর দিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে ঢাকার উত্তরাংশের উপর দিয়ে সিলেট সুনামগঞ্জ হয়ে চলে যায়। কিন্তু এবার এই বৃষ্টি নওগা, রাজশাহী দিয়ে শুরু করে ঢাকার মধ্যাঞ্চল হয়ে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম হয়ে চলে যাচ্ছে। 

কিন্তু বছরের এসময়ের বৃষ্টি তো সকাল ও সন্ধ্যায় বেশি হয়। পুরোদিন মোটামুটি বৃষ্টিমুক্ত থাকে। এবারো কি আমরা তেমন দেখতে পাবো? এছাড়া ঈদের দিন বৃষ্টি হবে কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ঈদের দিন ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। তবে এই বৃষ্টি সকাল ও সন্ধ্যায় হবার সম্ভাবনাই বেশি। ঢাকা ছাড়া দেশের রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা বৃষ্টি হতেও পারে। অর্থ্যাৎ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় ঈদের দিন বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঈদের পর দিন থেকে বৃষ্টির মাত্রা কমে আসতে পারে।

এদিকে বছরের এসময়ে যতো বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হয়ে থাকে তা বেশিরভাগ সময় সন্ধ্যায় বা ভোর রাতে হয়ে থাকে। বছরের এসময়ের ঝড়-বৃষ্টির ধরনই সন্ধ্যায় কিংবা ভোরে হওয়া। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘জলীয় বাস্পপূর্ন বায়ু ছাড়া বৃষ্টি হবে না। দেশের দক্ষিণের সাগর থেকে জলীয় বাস্প নিয়ে আসে সন্ধ্যার পর। সেময় দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পশ্চিমা বাতাস আসে। উভয়ের বাতাসের মিলিত প্রভাব বৃষ্টির জন্য উপযোগিতা পায় সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত। তাই মূলত সন্ধ্যার পর কিংবা ভোর রাতে বৃষ্টি হয়ে থাকে।’

আবহাওয়াবিদদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার তুলনায় ভোর রাতেই বেশি ঝড়-বৃষ্টি হয়ে থাকে। বছরের এসময়ে দিনভর তাপমাত্রা বেশি থাকার পাশাপাশি বাতাস উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হয়। আর উত্তরের বাতাসে গতি থাকলেও তা জলীয়বাস্প হীন। সন্ধ্যার পর বাতাসের দিক পরিবর্তিন হয়ে দক্ষিণ দিক থেকে আসে। আর এই বাতাসে জলীয়বাস্প থাকে। এই বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় ঘনীভূত হয়ে স্বল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি ঘটায়। বাতাস ঘনীভূত হতে অনেক সময় ভোর রাত পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আর একারণে স্বল্প সময়ের জন্য ঝড়-বৃষ্টি ঘটিয়ে জলীয়বাস্প হারিয়ে শুস্ক বায়ুতে পরিণত হয় এবং সকালে রোদ ঝলমলে সকাল দেখা যায়।   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত