বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বন্ধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ১০:৪১ এএম

অভিবাসনবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা না করা তথাকথিত ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’গুলোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কার্যক্রম বন্ধের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন মঙ্গলবার (২৬ মে) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, 'আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি, যদিও এখনই তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।' মুলিনের অভিযোগ, কিছু ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহর ফেডারেল অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি যে ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’ ও অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে বোস্টন, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল ও ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহরের নাম রয়েছে। এসব শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে লাখো বিদেশি দর্শনার্থীর যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা রয়েছে।

ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তাদের কিছু বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে তাদের নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এতে ভ্রমণশিল্প ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের ওপর “বিধ্বংসী প্রভাব” পড়তে পারে।

শুধু নিউইয়র্কের তিনটি প্রধান বিমানবন্দর দিয়েই গত বছর পাঁচ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী যাতায়াত করেছেন। বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন এয়ারলাইন্স ফর আমেরিকা বলছে, বড় বিমানবন্দরগুলোতে কাস্টমস জনবল কমিয়ে দিলে যাত্রীসেবা, কার্গো পরিবহন ও সামগ্রিক বিমান চলাচল বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত