দায়িত্বে অবহেলা

এমন পদক্ষেপই চাই

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০২:১৮ এএম

নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কিছু দায়িত্ব আছে। কিছু কিছু দায়িত্ব প্রতিদিনই পালন করতে হয়। সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রায় সব ইউনিটে আবর্জনা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশন, সড়ক বাতি ঠিক রাখা ও মশক নিবারণসহ নিয়মিত কিছু কাজ থাকে। কিছু মৌসুমি দায়িত্বও থাকে। যেমন : ঈদুল আজহার সময় বর্জ্য অপসারণ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব যে জানেন না, তা নয়; জানেন। তারপরও অনেকে এসব দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকিতে ধরা পড়ার কথা। তদারকিতে যদি ঘাটতি থাকে, তা সংশ্লিষ্ট উচ্চতম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নজরে আসার কথা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) নাগরিকসেবার দায়িত্ব পালন ও তদারকি ঠিকমতো হচ্ছে না।

দুই সিটি করপোরেশন ঈদের আগেই ঘোষণা দিয়েছে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তারা কতটা সময় নেবে। ঈদের তিন দিনই তাদের এ দায়িত্ব পালন করার কথা। দেশ রূপান্তরের অনলাইন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখতে শুরু করেন। কাউকে আগে থেকে না জানিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তিনি দেখলেন। প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে অনেক স্থানে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ হয়নি। নর্দমা পরিষ্কার করা হয়নি। আগের জমে থাকা ময়লা বহু স্থানে পড়ে আছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নিজে গাড়ি চালাতে চালাতে প্রধানমন্ত্রী যখন এসব দেখছিলেন, তখন তার পাশেই ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয়ে একশ্রেণির কর্মকর্তার উদাসীনতায় প্রধানমন্ত্রী বেশ অসন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শুধু অসন্তোষ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশনা দেন। পরে দায়িত্বে অবহেলার জন্য আরও ছয় ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন। তারা হলেন দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আটজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

যে আটজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক বছর ধরে সরকারি চাকরি করছেন, এমন কর্মকর্তাও আছেন। তাদের বুঝতে পারার কথা, প্রায় দুই কোটি মানুষের এই মহানগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা থাকলে নগরবাসীর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা আছে। প্রশ্ন হলো তাহলে তারা কেন দায়িত্বে অবহেলা করলেন? এমন অবহেলা কি কিছু কর্মকর্তার জন্য নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে; অভ্যাস হয়ে গেছে? অন্য জনবহুল মহানগরগুলোয় সেবার কী অবস্থা? আমরা চাই নাগরিকসেবার যত ক্ষেত্র আছে, সবটিতে সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক হবেন। আর যিনিই দায়িত্বে অবহেলা করবেন, তার বিরুদ্ধেই দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত