ঈদ-যাত্রায় দুর্ঘটনা

সড়কে শৃঙ্খলা জরুরি

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০২:২৯ এএম

সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক পরিবারে ঈদের আনন্দ বিষাদ হয়ে এসেছে। ঈদুল আজহার ১০ দিন ছুটিতে সড়ক-মহাসড়কে ২০০ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৩১ নারী, পুরুষ ও শিশু মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮৪ জন মোটরসাইকেল আরোহী। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৬১ জন। যাত্রী অধিকার রক্ষায় সক্রিয় সংগঠনগুলো প্রধানত গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর থেকে তথ্য নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানায়। এবার ঈদে মুদ্রিত পত্রিকায় পাঁচ দিন ছুটি থাকায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে কি না, সে বিষয়ে সংগঠনগুলো নিজেরা কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছে। তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা ও ধরন এবং হতাহতের যেটুকু তথ্য মিলেছে, তা আশঙ্কাজনক। দেশ রূপান্তরে সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালের তথ্যে এ কয়েকদিনে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তৎপরতার মধ্যেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।

আমরা মনে করি কেন এত দুর্ঘটনা ঘটছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া  প্রয়োজন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো থাকায় প্রায় সব ধরনের যানবাহনে গতি বেড়েছে। এর মধ্যে প্রধানত বাস ও ট্রাকের সঙ্গে মোটরবাইক, অটোরিকশা, কার ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, বাস-ট্রাক উল্টে যাওয়াসহ নানা কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। অদক্ষ চালক,  ট্রাফিক আইন না মানা, বেপরোয়া চালনা, আগে যেতে অস্বাভাবিক জোরে গাড়ি চালানো, উল্টোদিকে যাওয়া ও  যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো না করা দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর কয়েকটি। বাড়তি আয়ের জন্য বেআইনিভাবে ট্রাক-বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা হয়েছে; এমন কয়েকটি বাহন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় হতাহত বেড়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ এড়াতে অনেকে ছাদে চড়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ পথে হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেক যাত্রীর মধ্যে সচেতনতার মারাত্মক অভাব দেখা গেছে। সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকে স্বজনদের কাছে সুস্থ দেহে পৌঁছাতে পারেননি। কারও স্থান হয়েছে হাসপাতালে। কারও মরদেহ নিজের পরিবারে পৌঁছেছে ‘কান্না’ হয়ে। আরেকটি অসুবিধা হলো, প্রায় সব দুর্ঘটনার কথা কিছুদিন পর সবাই ভুলে যায়।

দুর্ঘটনায় কান্না রোধ করতে হলে সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতেই হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সব ধরনের যানবাহন কি সব সড়ক-মহাসড়কে চলবে? যান্ত্রিক সব ধরনের যান চালনার ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। উল্টোপথে গাড়ি চলবে না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি পথে বেরোবে না। দ্রুতগতির গাড়ির লেনে কোনো অবস্থাতেই ধীরগতির বাহন যাবে না। মহাসড়ক ও নগরের প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করতে হবে। অটোরিকশা, মোটরবাইককে অবশ্যই ‘সার্ভিস রোডে’ থাকতে হবে। যে মহাসড়কে ‘সার্ভিস রোড’ নেই, সেখানে তা নির্মাণ করতে হবে। মোটরবাইকে প্রত্যেকের হেলমেট থাকতে হবে। রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি থাকতে হবে। ট্রাফিক আইন সবাইকে মানতে হবে। সড়কে চাঁদাবাজি ও ছাদে যাত্রী বহন বন্ধ করতে হবে। যাত্রী সচেতনতা তৈরিতে শিশু অবস্থাতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পথে চলাচলের নিয়ম শেখাতে হবে। শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে তৎপর হতে হবে। সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাদের দায়িত্ব, তাদের জবাবদিহি করাও আমাদের প্রত্যাশা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত