প্রবাসী আরিফের ঘরে ফেরা হলো না

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:০৯ এএম

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম (৩০)। দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশে ফেরেন। রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে গ্রামের বাড়ি ফেরার পাশাপাশি ঈদ আনন্দে মেতেছিল পুরো পরিবার। কিন্তু সেই ফেরা আর পূর্ণতা পেল না। বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা, ভাই-বোনসহ মারা যান আরিফ। মুহূর্তেই সড়কেই শেষ হয়ে যায় একটি পরিবার। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে সিলিন্ডারভর্তি একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার মালীগ্রাম ফ্লাইওভার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফুল ইসলাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। নিহত অন্যরা হলেন আরিফের মা নুরজাহান বেগম (৫৫), বোন আয়েশা আক্তার (৩২) ও ভাই রাকিবুল ইসলাম (১৮)। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রাইভেটকারের চালক জাহিদ হোসেন। তিনি পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার গৌরপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন দুই শিশু। তারা হলেন আরিফুলের বোনের মেয়ে তাসফিয়া (৩) ও ছেলে মো. হুসাইন (৬)।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এলাকাবাসী জানায়, এ পরিবারের শুধু একজনই বেঁচে আছেন। আরিফের বাবা শহিদুল ইসলাম। আরিফের বিয়ের জন্য আগামীকাল মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল পরিবারের।

জানা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন আরিফ। সোমবার রাতে তিনি দেশে ফেরেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যশোরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে ভোরে ভাঙ্গার মালীগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনায় সড়কেই শেষ হয়ে যায় পরিবারটি।

শিবচর হাইওয়ে থানার এসআই নুর আলম বলেন, দুর্ঘটনায় কারের চালকসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত