ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:১০ এএম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকটির গ্রাহকরা।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন শাখার সামনে মানববন্ধন করেছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা ইসলামী ব্যাংকের সব পর্ষদ সদস্যের পদত্যাগের দাবি জানান। পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচার ও ব্যাংক দখলের অভিযোগের বিচার এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য আব্দুস সাত্তার সুমন দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাপর্যায়েও গ্রাহকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। গতকাল দুপুর ১২টায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুর-উন-নবী।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বোর্ড থেকে অপসারণ, ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতি সমন্বয় এবং ব্যাংক খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি লাখো গ্রাহকের আস্থা ও আমানতের সঙ্গে জড়িত। তাই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তারা বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং গ্রাহক হিসেবে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য করা অনভিপ্রেত বলেও মন্তব্য করেন তারা।

উল্লেখ্য, ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই একাংশ গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত