ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিন ইতোমধ্যেই 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ' শুরু করে দিয়েছেন এবং রাশিয়ার আগ্রাসন থামাতে হলে ধারাবাহিক সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
কিয়েভে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল থেকে ইউক্রেনকে সরে যেতে হবে— মস্কোর এমন দাবি তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষায়, এই অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া মানে সেখানে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ ইউক্রেনীয় নাগরিককে পরিত্যাগ করা এবং দেশের অবস্থান দুর্বল করে দেওয়া।
পুতিন সম্পর্কে তিনি বলেন, 'এতে হয়তো কিছু সময়ের জন্য তিনি সন্তুষ্ট হবেন। তার একটি বিরতি দরকার। কিন্তু তিনি শক্তি পুনরুদ্ধার করেই আবার এগিয়ে আসবেন।'
জেলেনস্কি দৃঢ়ভাবে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ হারবে না। তার মতে, বিজয় মানে দেশের স্বাধীনতা অটুট রাখা এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৯১ সালের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত পুনরুদ্ধার করা। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনই সব দখলকৃত এলাকা ফেরত নিতে গেলে বিপুল প্রাণহানি ঘটবে এবং তার জন্য যে পরিমাণ অস্ত্র প্রয়োজন, তা বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে নেই।
এছাড়া তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততার বিষয়েও কথা বলেন। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিছু ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া হতে পারে সমাধানের পথ। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের কথাও বলেছেন, যা রাশিয়ার এই দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যে জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, 'আমি স্বৈরশাসক নই, এবং আমি যুদ্ধ শুরু করিনি।' তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে হলে তা কংগ্রেসের অনুমোদনসহ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হলেও সেই প্রতিশ্রুতি অটুট থাকে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি আবার প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে যুদ্ধাবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করতে হলে আইনগত পরিবর্তন ও শক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের বড় একটি অংশ দখলে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকায় নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা কমলেও ইউক্রেন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা এবং ইউরোপের অর্থায়নে সরবরাহকৃত অস্ত্র পাচ্ছে। জেলেনস্কি জানান, কিয়েভ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশে উৎপাদনের অনুমতি নিচ্ছে। সবশেষে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ শেষ করতে হলে কূটনীতি ও চাপ—দুই পথেই একসঙ্গে এগোতে হবে। তার মতে, পুতিনকে থামানো শুধু ইউক্রেনের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
