মোসাদ্দেকের নতুন শুরু

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ এএম

চার বছর পর দলে ফিরেই ব্যাটে-বলে ফিল্ডিংয়ে দারুণ পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ম্যাচসেরা হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন তার অবিশ্বাস্য ফেরা নিয়ে

আপনার সেরা ম্যাচ কি না?

মোসাদ্দেক সৈকত : বলা যায় এ-রকম চাপের মুহূর্তে বেস্ট ম্যাচ। যদি উইকেটটা দেখেন, আমরা ড্রেসিং রুমেও কথা বলছিলাম, ৩০০-৩২০ রানের উইকেট ছিল। খুবই ভালো উইকেট। যখন আমাদের দুইটা উইকেট পড়ে যায়, আমাদের জন্য একটু ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। লিটনের আউটটা যদি ঐ সময়টাতে না হতো, হয়তো-বা আমরা ৩০০-৩২০ করতে পারতাম।

লিগে পারফর্ম করছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় পারফর্ম করার পরেও হয়তো টিমে ঢুকতেন না। ফ্রাস্ট্রেশনটা কীরকম ছিল গত চার বছর?

মোসাদ্দেক সৈকত : অবশ্যই ফ্রাস্ট্রেশন ছিল। আমার স্ট্রাগল পিরিয়ডটা হয়তো-বা অনেকেই আপনারা দেখেছেন, হয়তো-বা অনেকে দেখেননি। ঐ জায়গা থেকে আমি সবসময় ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি এবং আমি আমার কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এইটা মাথার মধ্যে ছিল যে একটা অপরচুনিটি যখন আসবে, সেই অপরচুনিটিটা যেন আমি ভালোভাবে নিতে পারি। সো মাশাআল্লাহ, যতটুকু না চেয়েছি আল্লাহ তায়ালা তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছেন।

উইকেটে এসেই ডাউন দ্য উইকেটে এসে একটা ছক্কা মেরে দিলেন। সোজা ছয় মারলেন একদম সাইড স্ক্রিনে, রিভার্স সুইপটাও অনেক বেশি ইম্প্র“ভ করেছেন। এই জায়গাটার চিন্তাটা কী ছিল?

মোসাদ্দেক সৈকত : ডমেস্টিকে আমি এভাবেই খেলার চেষ্টা করছিলাম। এখনকার ক্রিকেট যদি আমরা দেখি, সবকিছু মিলিয়ে সিচুয়েশন বা স্ট্রাইক রেটের কথা যদি আসে, ঐ জিনিসটা সবসময় মাথায় কাজ করত যখন ডমেস্টিকে খেলতাম। ঐ জিনিসটা জাস্ট আমি ঐখান থেকে এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। তো আলহামদুলিল্লাহ যে প্রথম ম্যাচটা শুরুতেই এমন একটা স্টার্ট পাওয়া এবং আমার কাজ যেটা টিমের জন্য দরকার ছিল, সেটা আমার কাজটা করা। চেষ্টা করব পরের ম্যাচগুলোতে যেন এ-রকম কন্টিনিউ করতে পারি।

আবাহনীর হয়ে অসংখ্যবার এমন সিচুয়েশনে ব্যাটিং করতে নেমেছেন যে ২৫ ওভারে ১৫০ রান, চার উইকেট গেছে, এখন নেমেছেন। আজকেও ঐ সিচুয়েশনে ব্যাট করতে নামলেন। এই জায়গাটা, এই জোনটা আপনার জন্য মুখস্থ কি না?

মোসাদ্দেক সৈকত : আমি প্রথমেই থ্যাঙ্কফুল টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি। উনারা আমাকে যেভাবে ব্যাক করেছে, খেলার শুরুর আগে যেভাবে ফ্রিডম আমাকে দিয়েছে, আমাকে জাস্ট বলা হয়েছে আমার খেলাটাকে ইনজয় করতে। ঐ জিনিসটা খেলার সময় মাথার মধ্যে ছিল না যে অনেকদিন পরে আসছি বা কিছু। সিচুয়েশন যা ডিমান্ড করছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে যে ওভাবে করেই যাওয়া উচিত। আমি জাস্ট আমার কাজটা করার চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রথম জয় টি-টোয়েন্টিতে। এই জয়টা অবশ্যই ঐতিহাসিক। আপনারা ড্রেসিংরুমে এটা কেমন এনজয় করেছেন এবং চাপের কথাটা যেটা বললেন, আসলে চাপটা কেমন ছিল?

মোসাদ্দেক সৈকত : ইন্টারন্যাশনাল খেলা কখনোই আপনার জন্য ইজি হবে না বা সিচুয়েশনগুলো যখন আসবে, একটা প্রেশার তো সবসময় আপনার কাছে থাকবে। এবং যখন আপনি টিম লাইক অস্ট্রেলিয়ার মতো টিমের সঙ্গে খেলবেন, ওরা আসলে সবসময় অর্গানাইজড থাকে। ওরা ওদের প্রসেস থেকে বের হতে চায় না। ঐ জায়গা থেকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের প্রসেসটাও ঠিকঠাক ছিল। জাস্ট আমরা ২০টা রান কম করেছি।

একটু রিস্ক নিয়েছিলেন, জাম্পার ওভারে আমরা দেখেছি কয়েকটা রিভার্স সুইপ। ওই সময়টা আসলে কী কাজ করছিল যখন উইকেটও পড়ে গিয়েছিল?

মোসাদ্দেক সৈকত : আমার সালাউদ্দিন স্যারের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে এবং আশরাফুল ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। উনাদের কথাটা একদম ক্লিয়ার ছিল যে আমরা যে সিচুয়েশনে আমি বিশেষ করে ব্যাটিং করতে যাব, ঐ জায়গা থেকে যদি ৪০ রানে চার উইকেট থাকে, সেখান থেকে যদি আমি আস্তে আস্তে খেলি হয়তো-বা ১৬০-৭০ করতে পারি, যেটা ওয়ানডে ক্রিকেটে ডিফেন্ড করা ডিফিকাল্ট। এবং ২০০ রানে চার উইকেট পড়ার পরে আমার ব্যাটিংয়ে যাওয়া লাগতে পারে, সেখান থেকেও যদি আমি নরমাল খেলতে থাকি, তো সেই জায়গা থেকে হয়তো-বা ২৬০-৭০ করব, সেটাও ডিফিকাল্ট। অবশ্যই আমাদের ভালো উইকেট পেলে আমার কাছে মনে হয় ৩০০-৩২০ রানের জন্যই খেলা উচিত এবং ড্রেসিংরুম থেকে এই মেসেজটাই ছিল যে আমরা ম্যাক্সিমাম যত রান করতে পারি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রেগুলার রান করার পরেও চারটা বছর আবার অপেক্ষা করতে হলো ন্যাশনাল টিমে খেলার জন্য। একটু আগে বলছিলেন আপনার কষ্ট ছিল। অনেস্টলি কি ফিল করেন যে আপনি একটু ইনজাস্টিসের শিকার হয়েছেন?

মোসাদ্দেক সৈকত : এখন আমি ঐদিকে চিন্তা করলে সেটা তো আমার কাছে কখনোই ব্যাক করে আসবে না। ঐভাবে আমি কখনোই চিন্তা করিনি। শুধু আমি বর্তমানে থাকার চেষ্টা করেছি যে যখন যে অপরচুনিটি আমার জন্য আসবে, সেটা যেন আমি ভালোভাবে নিতে পারি। সেটার জন্যই প্র্যাকটিস করা, নিজেকে রেডি করা। ঐভাবেই সবসময় প্র্যাকটিস করার ট্রাই করেছি।

বলা হয়েছিল যে মিরাজ ছাড়া নাকি আপনাকে দলে নেওয়া টাফ বা নেওয়া সম্ভব না। যখন এই ধরনের কমেন্টস চিফ সিলেক্টর থেকে আসে, তখন ওইটা আপনার জন্য মেনে নেওয়াটা কতটা কঠিন হয়ে যায়?

মোসাদ্দেক সৈকত : আমি প্রথমেই বলব যে ওটা একদম উনার একটা পার্সোনাল মতামত ছিল। এটা অনেকদিন আগের কথা। এই ব্যাপারগুলোতে আমি এর আগেও কখনোই মিডিয়াতে কথা বলতে চাইনি বা আমি কমফোর্টেবল ছিলাম না বলার জন্য। এখনো আমি ওভাবে চাই না। এটা উনার একটা পার্সোনাল ওপিনিয়ন। তবে থ্যাঙ্কফুল এখন যারা ম্যানেজমেন্টে আছেন, তারা আমাকে সেই অপরচুনিটি ক্রিয়েট করে দিয়েছেন এবং তারা আমার ওপর সেই ট্রাস্টটা রাখছে। আমি তাদের কাছে থ্যাঙ্কফুল এবং আমি চেষ্টা করব তাদের যে আস্থাটা আমার ওপর রাখছে, সেটার যেন প্রতিদান আমি দিতে পারি।

ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল সাইকোলজিক্যালি আপনার কিছুই হারানোর নেই। একটা নতুন জন্মের মতো ব্যাপার, নতুন জায়গায় শুরু, নতুন করে। তাই কি মনে হচ্ছিল কিছুই হারানোর নেই?

মোসাদ্দেক সৈকত : সত্যি বলতে, আসলে হলে হলো, না হলে নেই, এভাবে কখনোই চিন্তা করিনি। আমি জাস্ট চেষ্টা করেছি যে যতক্ষণ ব্যাটিং করার অপরচুনিটি থাকবে আমার, আমি যেন ম্যাক্সিমাম রানটা আমার টিমের জন্য করতে পারি। সেটা ক্যালকুলেটিভ যতটুকু রিস্ক নেওয়া দরকার, আমি ওইগুলোই চেষ্টা করেছি এবং চেষ্টা করেছি আমার জোনের শটসগুলো খেলার জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত