বর্তমান যুগকে বলা হয় প্রযুক্তির যুগ। এ যুগে প্রযুক্তি এতটাই মানুষের হাতের মুঠোয় এসেছে যে মানুষ প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এক মুহূর্ত কল্পনা করতে পারে না। আর এই প্রযুক্তির কিছু পজিটিভ দিকের সঙ্গে রয়েছে কিছু নেগেটিভ দিক। যেমন আইটি বিশেষজ্ঞরা চাইলে কারো ব্যক্তিগত একাউন্টকে একাউন্টের মালিকের অনুমতি উপেক্ষা করে নিজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসতে পারে। যাকে বলা হয় হ্যাকিং। হ্যাকিং, শব্দটা শুনলে মনের ভিতরে কেমন যেন একটা ভয় কাজ করে সবার। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে হ্যাকিং দুই ধরনের হতে পারে। যাকে খারাপ এবং ভালো দুইভাবেই ব্যবহার করা সম্ভব। আজকের যুগে সাইবার সিকিউরিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পেছনে কাজ করে এথিক্যাল হ্যাকারস। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এথিক্যাল হ্যাকারস কারা? তাদের কাজটাই বা কি?
একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা উপস্থাপন করা যাক। ধরুন আপনার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম) একাউন্ট টি আপনার অনিচ্ছাকৃত শর্তে কেউ তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরিচালনা করছে। কিন্তু আপনার একাউন্ট কি আপনার কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার সেটাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই জরুরী। ঠিক এই পয়েন্টে কাজ করে এথিক্যাল হ্যাকার। আপনার নিয়ন্ত্রণহীন ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি কে পুনরায় আপনার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকে। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সফল হয়। এর পেছনে রয়েছে তাদের তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক বাস্তবিক এবং প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা। ঠিক এমন কাজটাই করে থাকে Bangladesh Civilian Force।
বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স মাত্র ১০ জন সদস্য নিয়ে ২০১৫ সালের ২০ জুলাই অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। তবে ধীরে ধীরে এটি মানুষের মন জয় করে নেয় এবং পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে একটি ফেইসবুক পেজ খোলার মাধ্যমে। যার নাম দেওয়া হয় Bangladesh Civilian Force. যাদের কাজ ছিল কারো হ্যাক হয়ে যাওয়া ব্যক্তিগত একাউন্ট কিংবা ওয়েবসাইট উদ্ধার করা এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আনা। শুরুর দিকে কাজের বিনিময়ে তারা ক্লায়েন্ট এর কাছে আবদার রাখে অসহায় পথ শিশুদের একদিনের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ধীরে ধীরে তারা ব্যাপক সাড়া পেতে থাকে এবং টিমে সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। যাদের বেশিরভাগই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী। যাদের অনেকেরই আর্থিকভাবে ততটা স্বাবলম্বী না। ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে তারা কাজের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন শুরু করে। যদিও সেটা অন্যান্য ইথিক্যাল হ্যাকার গ্রুপের তুলনায় খুবই নগণ্য। পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ করে ভাল কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ না নেওয়ার উদারতা দেখানো হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে Bangladesh Civilian Force অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট মাধ্যম। বর্তমানে তাদের টিমে সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন।
বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিগত, সামাজিক কিংবা ব্যবসায়িক একাউন্ট বা পেজ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ইউটিউব চ্যানেল এবং আবু তোহা আদনানের ফেসবুক পেজ সম্পর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে। উল্লেখযোগ্য ২০২০ সালে ফ্রান্স কর্তৃক মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স ও রয়েল ব্যাটেলার বিডির যৌথ আক্রমণে ফ্রান্সের ১০০ টির ও বেশি ওয়েবসাইট দখল করে এই হ্যাকার গ্রুপটি।এছাড়াও ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নামে ভুয়া টুইটার একাউন্ট হলে সেটি বন্ধ করতে সফল হয় বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স। পাশাপাশি বাংলাদেশের নামে অপপ্রচার করায় কলকাতার একজন তথাকথিত সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জনের ফেসবুক পেজ অকার্যকর করতে সফল হয় তারা। এছাড়া ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলের হামলা চলাকালীন সময়ে ইসরাইলের ওয়েব সাইটে সাইবার হামলা চালানোর মত সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশের ২৫টি সরকারি-বেসরকারি সাইট ভারতীয় একদল হ্যাকার দখলে নেয়ার প্রতিবাদে' দেশটির প্রায় ১ হাজারের বেশি সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইট দখল করে অনেকটা হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স। সুতরাং বলার অবকাশ রাখেনা যখনই কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স তাদের সাইবার অ্যাটাক মাধ্যমে সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। পাশাপাশি তাদের আরেকটা সবচেয়ে বড় গুণ হলো যারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে ভালো কাজের সাথে যুক্ত আছে তাদেরকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে।
এতসব ভালো কাজ করার পরেও বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি কোন কাজে সহযোগিতা করার সুযোগ পায়নি। আমি মনে করি বর্তমান সরকার চাইলে বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স সংগঠনটিকে বিভিন্ন পজেটিভ সাইবার সিকিউরিটি সেক্টরে কাজে লাগিয়ে দেশ এবং জনগণের সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বর্তমান বাংলাদেশে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম সহ সকল প্রকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যবহারকারীদের সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত জটিলতা। যা সরকারের একার পক্ষে সামাল দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স হয়ে উঠতে পারে একটি ভরসার নাম। বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স সহ বাংলাদেশে কাজ করা সকল ইথিক্যাল হ্যাকারসদের নিয়ে সরকার চাইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাইবার হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষা করতে পারেন।
নীলফামারীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত ২
কথাই বলতে পারছেন না পরিচালক অমি