বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। প্রিয় দলকে ঘিরে উন্মাদনায় মেতে ওঠেন কোটি ফুটবলপ্রেমী। তবে সেই উন্মাদনাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যমুনা পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জের এক ব্রাজিল সমর্থক। নিজের ভালোবাসার দল ব্রাজিলকে ঘিরে তিনি তৈরি করেছেন ব্যতিক্রমী এক “ব্রাজিল বাড়ি”, যা এখন সিরাজগঞ্জ শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকেই চোখে পড়ে হলুদ-সবুজ রঙে মোড়ানো দৃষ্টিনন্দন একটি বাড়ি। দেখলেই মনে হবে যেন ব্রাজিলের কোনো ছোট্ট অংশ এসে দাঁড়িয়েছে সিরাজগঞ্জ শহরের মোক্তারপাড়া মহল্লায়।
শুধু বাড়িই নয়, তার মালিকানাধীন যাত্রীবাহী বাসও সাজানো হয়েছে ব্রাজিলের পতাকার আদলে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়িটির সামনে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন “ব্রাজিল বাড়ির” গল্প। সন্ধ্যা নামলেই বাড়িটির সামনে যেনো ছোটখাটো উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
ব্রাজিল দলের সমর্থক ও একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি ইউসুফ দেওয়ান রাজু বলেন, শুধু খেলা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই লিটন ভাইয়ের ভালোবাসা। তিনি পুরো শহরে ব্রাজিলের আবেগ ছড়িয়ে দিয়েছেন। নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিংবা রোনালদিনহোর প্রতি যে ভালোবাসা একজন সমর্থকের থাকতে পারে, সেটার বাস্তব উদাহরণ এই ব্রাজিল বাড়ি।
আরেক ব্রাজিল সমর্থক রানা আহম্মেদ বলেন, বিশ্বকাপ এলেই আমরা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে অনেক আনন্দ করি। কিন্তু লিটন ভাই যেভাবে নিজের বাড়িকে ব্রাজিলের রঙে সাজিয়েছেন, সেটা সত্যিই ব্যতিক্রম। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এই বাড়ি দেখতে আসছেন।
বাড়ির মালিক লিটন সরকার জানান, ছোটবেলা থেকেই তার ব্রাজিল দলের প্রতি আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের খেলা দেখে বড় হয়েছেন তিনি। সেই আবেগ থেকেই ২০১৮ সালে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নিজের বাড়িটিকে ব্রাজিলের পতাকার রঙে সাজান তিনি। ২০২২ সালেও এই বাড়িটি আলোচনায় ছিল। এবার বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে নতুনভাবে সাজিয়েছেন পুরো বাড়িটি।
তিনি বলেন, ব্রাজিল শুধু একটি দল নয়, এটা আমার আবেগ। তাই বাড়ি, গাড়ি সবকিছুতেই ব্রাজিলকে ধারণ করেছি। আগের দুই বিশ্বকাপের চেয়েও এবার আরও সুন্দরভাবে সাজানোর চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি ব্রাজিল সমর্থকদের মাঝে ১০০টি জার্সিও বিতরণ করেছি। আমার বিশ্বাস, এবার বিশ্বকাপে ব্রাজিল ভালো কিছু করবে।
মোক্তারপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই এই বাড়িটা দেখতে মানুষ ভিড় করে। এখন এটা সিরাজগঞ্জ শহরের একটা পরিচিত জায়গায় পরিণত হয়েছে। ছোট-বড় সবাই এখানে এসে ছবি তোলে, ভিডিও করে। আসলে এটা শুধু একটি বাড়ি নয়, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক। বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে “ব্রাজিল বাড়ি”। শহরের চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সবখানেই এখন আলোচনা এই বাড়িকে ঘিরে। অনেকেই বলছেন, সিরাজগঞ্জের বুকে গড়ে ওঠা এই “ব্রাজিল বাড়ি” যেন এক টুকরো সাম্বা নগরী, যেখানে ফুটবল আর ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের জবাব সন্তোষজনক নয়, দ্রুতই সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে, নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে এথিক্যাল হ্যাকারস সিভিলিয়ান ফোর্স