যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেয়া সোমালি রেফারিকে দেশে বীরোচিত সংবর্ধনা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারা সোমালিয়ার এক বিশ্বকাপ রেফারিকে বুধবার দেশটির রাজধানী মোগাদিশুতে বিপুল উৎসাহী সমর্থক ও সরকারি কর্মকর্তারা স্বাগত জানিয়েছেন। বিমানবন্দরে পৌঁছে ওই রেফারি ঘোষণা করেন, তিনি আগামী বিশ্বকাপে অবশ্যই থাকবেন এবং সোমালিয়ার তরুণদের নিজেদের দেশ নিয়ে গর্ব করার আহ্বান জানান।

রেফারি ওমর আরতান ফিফার চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়ে সোমালিয়ার ইতিহাসে প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার অনন্য কীর্তি গড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষ রেফারি এবং ২০২৫ সালে মহাদেশটির সেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত শনিবার মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর "নিরাপত্তা যাচাইকরণ সংক্রান্ত জটিলতার" কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে এক বিবৃতিতে জানায় মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ তারা প্রকাশ করেনি। এর পরপরই ফিফা তাকে বিশ্বকাপের রেফারির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়।

কেনিয়ায় অবস্থিত সোমালিয়া দূতাবাস জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই আরতানকে মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়েছিল। অন্য বিশ্বকাপ রেফারিদের সাথে মায়ামির ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল আরতানের।

মোগাদিশুর বিমানবন্দরে ফিরে আসার পর তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আরতান বিমান থেকে নামামাত্রই সোমালিয়ার পতাকা হাতে সমর্থকরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার গায়ে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে দেন। এরপর পুলিশ পাহারায় তাকে বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী, সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

"আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি আগামী বিশ্বকাপে অংশ নেব," বিমানবন্দরে সোমালিয়ার পতাকা হাতে জড়ো হওয়া শত শত সমর্থকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন। "আমি চাই সোমালিয়ার মানুষ এতে সান্ত্বনা পাক এবং আত্মবিশ্বাসী থাকুক।" আরতান বলেন, "সোমালিয়ার সুনাম রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিস্থিতি ভালো হোক বা খারাপ, সোমালিয়া আমাদের দেশ। এই পতাকা আমাদের, এই পাসপোর্টও আমাদের।"

ফিফা কর্তৃক নিযুক্ত একজন ম্যাচ অফিসিয়ালকে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশে ঢুকতে না দেওয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একই সাথে ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন তুলেছে যে—আমেরিকার এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা আদৌ আছে কিনা।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রায় ৪০টি দেশের তালিকায় সোমালিয়াও রয়েছে।

কয়েক দশকের যুদ্ধ এবং আল-কায়েদার সাথে সম্পৃক্ত উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাবের উত্থানের কারণে যেখানে বহু মানুষের প্রতিভা বিকশিত হতে পারে না, সেখানে আরতানের এই ঘটনা অনেক সোমালিবাসীকে হতাশ করেছে। তবে একই সাথে এটি দেশের তরুণদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, স্বপ্ন তাড়া করলে যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত