হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে তৌহিদ মিয়াকে (৩৬) ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে তৌহিদ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, তৌহিদ মিয়া একসময় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মাধবপুর থানা রোডের ডাকবাংলা মসজিদের সামনে একটি নার্সারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৌহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার এফআইআর নম্বর-৮, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৫ (জিআর নং-৩৩১) এবং অপরটির এফআইআর নম্বর-২৩, তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ (জিআর নং-৩৮৭)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসার অর্থে তৌহিদ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং একাধিক ফসলি জমি ক্রয় করেছেন। তাদের দাবি, বাড়িটি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। পাশাপাশি একটি কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে এলাকায় মাদক বিক্রি করা হয় এবং শিক্ষার্থীসহ তরুণদের কাছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, গত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করার পর লিখিত রেজুলেশন করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে অভিযুক্ত মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না, তা আমরা জানি না।
যোগাযোগ করা হলে তৌহিদ মিয়া জানান, একসময় ঠিকই আমি মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তবে গত ৪ মাস আগে এসব ছেড়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা কিনে কখনো নিজে চালাই কখনো ভাড়া দেই।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, তৌহিদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে ধরতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে উপকূলের কাছে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প