লাউ চাষে সফল কৃষি উদ্যোক্তা শান্ত

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম

পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কলেজ শিক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম শান্ত। কাউখালী কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্যই মূলত শান্ত কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এখন পড়াশোনার খরচ মিটিয়েও তিনি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

সাকিবুল ইসলাম শান্তর বাবার নাম জাকির হোসেন। চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের চিরাপাড়া গ্রামের এই শিক্ষার্থী উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ৫০ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন লাউ চাষ করেছেন। লাউ চাষে তিনি ব্যবহার করেছেন আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করেছেন নিজস্ব উৎপাদিত কেঁচো সার। আর কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করেছেন হলুদ আঠালো ফাঁদ ও ফেরোমোন ট্র্যাপ। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে কায়িক পরিশ্রমের পরিমাণ যেমন কমে গেছে, তেমনি কীটনাটক ব্যবহার না করে নিজস্ব পদ্ধতিতে পোকামাকড় দমনের কারণে খরচের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে লাউ চাষে তার লাভের পরিমাণ অন্যদের থেকে বেশি।

কৃষি উদ্যোক্তা শান্ত জানান, গত বছর লাউ চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার উৎপাদন বিক্রি করেছিলেন। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার টাকার লাউ ও লাউশাক বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার লাউ ও লাউশাক বিক্রির আশা করছেন তিনি। কৃষি থেকে অর্জিত আয় দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করছেন।

তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরাও কৃষিকে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবকরা কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। তিনি জানান, সরকার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি কাজে প্রশিক্ষণ, বিনাসুদে ঋণ ও উচ্চ ফলনশীল বিজ সরবরাহ করে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। এতে দেশের বেকারত্ব দূর হবে এবং কৃষিতে আধুনিকায়ন হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা বলেন, সাকিবুল ইসলাম শান্ত একজন উদ্যমী ও পরিশ্রমী তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে তার লাউ চাষ অন্য তরুণদের কৃষিমুখী হতে উৎসাহিত করবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়ার এ সময়ে শান্তের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। একজন কলেজ শিক্ষার্থী হয়েও তিনি কৃষিকে আয়ের উৎস হিসেবে গ্রহণ করছে। উপজেলা কৃষি অফিস তার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত