বৃষ্টিতে ছাদবাগানের যত্ন

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

বৃষ্টির পানিতে থাকা নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফেট ও নাইট্রেট আয়ন গাছের জন্য অনেক উপকারী। তাই বৃষ্টির পানি কলের পানির চেয়ে অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ। এ কারণে বর্ষাকালে গাছের পাতাগুলো আরও সতেজ হয়ে ওঠে। তবে অল্প বৃষ্টির পানি ফসলের জন্য উপকারী হলেও অধিক বৃষ্টিতে গাছ মরে যেতে পারে। তাই ছাদবাগানের গাছের যতেœ কিছু বাড়তি কাজ করতে হবে।

নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ আশ্রয়

বৃষ্টির সময় গাছের আকার, দৃঢ়তা ও প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলার সামর্থ্য অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে ছাদবাগানী ফরিদা আক্তারের পরামর্শ, যেসব গাছ বেশি পানি সহ্য করতে পারে না, সেগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হবে। যেমন শাক জাতীয় সবজি, মরিচ, টমেটো, বেগুন প্রভৃতি। সেক্ষেত্রে পলিথিনের ছাউনির নিচে, বারান্দা, সিঁড়িকোটার নিচে রাখা যেতে পারে। যেগুলোতে পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা আছে, সেগুলোতে সমস্যা হবে না।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা

অতি বর্ষণের কারণে ছাদবাগানে আশ্রয় নিতে পারে পোকা-মাকড়।  পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচতে বর্ষায় ছাদবাগান সবসময় ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এ সময় একটি টব থেকে আরেকটি টব সামান্য হলেও দূরত্বে রাখতে হবে। এর ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং ছাদবাগানের প্রতিটি কোণে আলো-বাতাস পৌঁছবে।

এ ছাড়াও পোকামাকড়ের আক্রমণে ছাদবাগানের ক্ষতি হতে পারে। এসব পোকামাকড় নতুন পাতার রস খেতে গাছে জড়ো হয়। তাই বর্ষার শুরু থেকেই কীটনাশকের ব্যবহার শুরু করতে হবে। প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে নিমের তেল, গোলমরিচ গুঁড়া, শুকনো মরিচের গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, রসুন, ছাই ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতেও কাজ না হলে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে

বৃষ্টির সময় গাছের গোড়ায় পানি জমে শিকড়ে পচন ধরতে পারে। তাই এ সময় ছাদবাগানের বিভিন্ন কোণে ও টবের মাটিতে যেন পানি জমে থাকতে না পারে সেজন্য পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে। ছাদবাগানী ফরিদা আক্তার বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাছে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অনেক গাছ আছে, যেগুলো অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। তাই গাছের টবে পর্যাপ্ত পরিমাণে যাতে পানি না জমে, সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। যেকোনো ঘরোয়া গাছের জন্য এমন টব বা পাত্র বাছাই করা দরকার, যেটায় পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজন মতো ছিদ্র থাকে। আর ইদানীং বড় বড় ড্রাম ব্যবহার করা হয়, তাই এই ড্রামগুলোতে যেন নির্দিষ্ট পরিমাণ ছিদ্র থাকে তা খেয়াল রাখা জরুরি।

আবার অনেক গাছ আছে, যেগুলোর পানি বেশি প্রয়োজন, সেগুলো এমন স্থানে রাখুন যাতে বৃষ্টির পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পায়। অনেক সময় দেখা যায়, মাটির ওপর টব রাখা হলে বৃষ্টির কারণে পিঁপড়া বা কেঁচো সেখানে আশ্রয় নেয়। পরে টবে বা গাছের গোড়ায় স্থায়ী বাসা বানিয়ে আস্তে আস্তে গাছের ক্ষতি করে। তাই বৃষ্টির পরপরই এগুলো নির্মূলের ব্যবস্থা করতে হবে।

পরজীবী দমন

বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে, ভেজা আবহাওয়ায় গাছের গোড়ায় শ্যাওলা ও পরজীবী উদ্ভিদ জন্ম নিতে পারে। এসব পরজীবী গাছের খাদ্যরস শুষে নিয়ে গাছের ক্ষতি করতে পারে। তাই এসব পরিষ্কার করতে হবে। বর্ষার পানি জমে মশার জন্য এক নতুন আবাসভূমি তৈরি করে। তাই এ সময়ে টবে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বর্ষায় যেহেতু রোদ কম থাকে তাই অনেক গাছেরই রোদের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য ছোট টবগুলো সামান্য রোদ উঠলেই খোলা আকাশের নিচে এনে রাখতে হবে।

লেখক : ফিচার লেখক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত