শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক বিকাশ একটি সুস্থ সমাজ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী, জন্ম থেকে ৮ বছর পর্যন্ত সময় শিশুদের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ সময়ে সঠিক যত্ন না পেলে পরবর্তী জীবনে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শারীরিক বিকাশ
পুষ্টি : বাংলাদেশে এখনো প্রায় ২৮% শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। তাই সুষম খাদ্য, বিশেষ করে প্রোটিন ও ভিটামিন জরুরি।
মায়ের দুধ : জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ঘুম : প্রাথমিক বয়সে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা এবং বড় হলে অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার।
টিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা : শিশু মৃত্যুহার কমাতে টিকা অত্যন্ত কার্যকর।
খেলাধুলা : প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা শারীরিক খেলা হাড় ও পেশি মজবুত করে।
মানসিক বিকাশ
পারিবারিক স্নেহ : মা-বাবার ইতিবাচক আচরণ আত্মবিশ^াস গড়ে তোলে।
ভাষা ও শিক্ষা : গল্প বলা ও গান শেখানো মস্তিষ্কের ভাষা ও কল্পনাশক্তি বিকাশ করে।
প্রশংসা ও উৎসাহ : ছোট অর্জনেও প্রশংসা করলে শিশুর আত্মবিশ^াস বাড়ে।
সৃজনশীলতা : আঁকাআঁকি, সংগীত, নাটক শিশুর কল্পনাশক্তি প্রসারিত করে।
আবেগ নিয়ন্ত্রণ : খেলাধুলা বা দলগত কাজে শিশু সহযোগিতা, ধৈর্য ও শেয়ার করার অভ্যাস শেখে।
কৈশোরে দিকনির্দেশনা : এ সময়ে মানসিক চাপ বেশি থাকে, তাই অভিভাবককে বন্ধুর মতো আচরণ করতে হয়।
সামাজিক বিকাশ
দলবদ্ধ খেলা : সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
শিক্ষক ও স্কুল : শুধু পড়াশোনা নয়, নৈতিকতা ও চারিত্রিক গুণাবলি শেখায়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : উৎসব, গান, নাটক শিশুদের মধ্যে মূল্যবোধ গড়ে তোলে।
ধর্মীয় শিক্ষা : নৈতিকতা ও আত্মসংযম শিখতে সহায়তা করে।
প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ : অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিশুর মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করে।
শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। পুষ্টিকর খাদ্য, খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ, শিক্ষা, ভালোবাসা এবং নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রÑ তিন পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই শিশুদের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।