রহস্যময় ‘ক্রিপটিড’

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১২:১৯ এএম

‘ক্রিপটিড’ হলো এমন, যাদের অস্তিত্ব বিতর্কিত বা বিজ্ঞান দ্বারা অপ্রমাণিত। ক্রিপ্টোজ্যুলজি অর্থাৎ ক্রিপটিড বিষয়ক গবেষণা দাবি করে এই ধরনের প্রাণী বন্য পরিবেশে কোথাও থাকতে পারে। তবে এমন কথা বিজ্ঞানীদের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। যার অস্তিত্বের কথা লোকগাথা বা মানুষের মুখে শোনা যায়। কিন্তু বিজ্ঞানের কাছে এর চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। জীববিজ্ঞানী ও মূলধারার বিজ্ঞানীদের কাছে ক্রিপটিডগুলো সাধারণত কাল্পনিক, লোকগাথা বা ভুলভাবে চিহ্নিত কোনো পরিচিত বন্যপ্রাণী। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় প্লাটিপাস, ওকাপি এবং কোমোডো ড্রাগনের মতো অদ্ভুত প্রাণীদেরও শুরুতে মানুষ কিংবদন্তি বা রহস্যময় ক্রিপটিড  ভেবে ভুল করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তবে কয়েকজন জীববিজ্ঞানী বলছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল, মহাসমুদ্রের তলদেশ বা বরফাবৃত পাহাড়ে এদের বাস। এরা সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির প্রাণী থেকে শুরু করে অদ্ভুত আকৃতির দানব, ডাইনোসর বা রূপান্তরিত মানুষ (যেমন নেকড়েমানব) হতে পারে। আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলছেন, এটি উত্তর আমেরিকার ঘন জঙ্গলে বসবাসকারী বিশাল, লোমশ, মানুষের মতো দেখতে প্রাণী। ক্রিপ্টোজু্যুলজিস্টরা, যারা সাধারণত নিজেদের অর্থায়নে বা ব্যক্তিগত অনুদানে পরিচালিত হন, তাদের লক্ষ্য হলো কথিত দর্শন স্থানগুলো থেকে প্রমাণ সংগ্রহ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে এই লুকানো প্রাণীর অস্তিত্ব প্রমাণ করা। ফরাসি গবেষক ড. বার্নার্ড হিউভেলম্যান্সকে তার ১৯৫৫ সালের বই ‘অন দ্য ট্র্যাক অব আননোন অ্যানিম্যালস’-এ ‘ক্রিপ্টোজ্যুলজি’ শব্দটি প্রথম ব্যবহারের কৃতিত্ব দেওয়া হয়। পরে তিনি এই শব্দটির কৃতিত্ব তার পরিচিত ছাত্র ইভান স্যান্ডারসনকে দেন। যিনি ১৯৪৭ এবং ১৯৪৮ সালে লেখা দুটি প্রবন্ধে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। মজার বিষয় হচ্ছে, অনেক প্রাণী আবিষ্কারের আগে এসবকে মানুষের বানানো গল্প বা ক্রিপটিড ভাবা হতো। বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানী বলেছেন- যেহেতু গবেষণা এখনো শেষ হয়নি, তাই চূড়ান্তভাবে কিছু প্রকাশ করা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত