মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ার পর ফিফা এবং বিশ্বকাপের লজিস্টিকস ও যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরান ক্রিকেট দলের ফুটবল অধিনায়ক মেহেদি তারেমি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এই বিশ্বকাপে তাদের দলের সাথে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে দাবি করে তিনি টুর্নামেন্টের লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনাকে "বিপর্যয়" বলে আখ্যা দেন।
শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। মেহেদি তারেমি প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে তার একটি হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের ৯৩ মিনিটে ইরানের জয়সূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় ম্যাচটি ড্র হয়।
ম্যাচটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। যার প্রভাব গ্যালারিতেও দেখা যায়; কিছু সমর্থক ইরানের প্রাক-বিপ্লব আমলের পতাকা ওড়ান এবং ইরানের জাতীয় সঙ্গীতের সময় ভুয়ো ধ্বনি দেন।
আমেরিকায় অবস্থান ও যাতায়াত নিয়ে ইরান দল শুরু থেকেই জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে ইরান দলকে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের বদলে মেক্সিকোর টিজুয়ানা-তে বেস ক্যাম্প করতে হয়েছে। ম্যাচের মাত্র দুই দিন আগে তাদের আমেরিকায় ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়।
তারেমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা, কিন্তু শুরু থেকেই তারা তা পারেনি। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি বড় টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচের জন্য বারবার মেক্সিকোর টিজুয়ানায় ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা মেক্সিকোর মানুষকে পছন্দ করি, তারা ভীষণ বিনয়ী। কিন্তু পেশাদার ফুটবলে এমন যাতায়াত ব্যবস্থা মোটেও সঠিক নয়।"
তারেমি জানান, প্রথম ম্যাচের পর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে এসে আশ্বস্ত করেছিলেন যে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু গ্রুপ পর্ব শেষ হতে চললেও ইরানের মূল লজিস্টিক স্টাফরা এখনো দলের সাথে যোগ দেওয়ার অনুমতি পাননি।
টুর্নামেন্টে ইরানকে সত্যিই চাওয়া হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেমি বলেন, "আমাদের সাহায্য করার মতো কে আছে এখানে? কেউ নেই। তারা যদি আমাদের এই টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দিতেই চায়, তবে ঠিক আছে, আমরা চলে যাচ্ছি। কিন্তু এই আচরণ কোনোভাবেই ফেয়ার (ন্যায়সঙ্গত) নয়।"
গ্রুপ পর্বে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থাকা ইরান এখন তাকিয়ে আছে শনিবারের বাকি ম্যাচগুলোর ফলের দিকে। সেরা চারটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হতে পারলেই কেবল তারা শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে।