হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। প্রতিটি ঘরে হরহামেশাই মিলছে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এতে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। এ চিত্র মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার। এ কারণে উপজেলাবাসী মাদকের আখড়া বলে পরিচিত লৌহজংয়ের গোয়ালীমান্দ্রা বেদেপল্লী উচ্ছেদের দাবি তুলেছে। আর বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিনব কৌশল নিয়েছে বেদেপল্লীর চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। তারাই এবার মাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। এভাবেই তারা বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে প্রশাসনকে ধোঁকা দিচ্ছে।
গতকাল সোমবার উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমনটিই জানান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওমর ফারুক অবাক, বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মাসুদ খানসহ একাধিক বক্তা। তারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় বক্তারা বলেন, বেদেদের মধ্যে এখন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়াসহ উচ্চ শিক্ষিত লোকও রয়েছে। কিন্তু এদেরই একশ্রেণির অসাধু লোক মাদক কারবারে জড়িয়ে বেদেপল্লীকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছে। এ মাদক কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ বেড়েছে। এমনকি তারা মাদক উদ্ধারে যাওয়া ডিবি পুলিশের ওপরও আক্রমণ করেছে।
বর্তমান সরকার যখন মাদক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে, তখন তারা এ অভিযান থেকে বাঁচতে মাদকবিরোধী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। গত বৃহস্পতিবার এমন একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন গোয়ালীমান্দ্রা বেদেপল্লীর চিহ্নিত মাদক কারবারি ও একাধিক মাদক মামলার আসামি তৈয়ব ইসলাম মোল্লা, ছামিউল মোল্লা, সাইদ খান, মো. রাজেস, আনারুলসহ অনেকেই।
এদের মধ্যে আবার তৈয়বের রয়েছে চোরাই মাল বেচাকেনার কারবার। ব্যানারে এনামুল মামা নামে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি গোয়ালীমান্দ্রার মাদকের গডফাদার ও একাধিক মামলার আসামি। তার এ রকম মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বক্তারা সভায় বিস্ময় প্রকার করেন এবং এদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা সভায় বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়াঘাটের পার্কিং ইয়ার্ড নতুন করে ইজারা দেওয়া হয়। ১ জুলাই থেকে নতুন ইজারাদার এ পার্কিং ইয়ার্ডে গাড়ি থেকে টোল আদায় করবেন। কিন্তু এই পার্কিং ইয়ার্ডে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ নানা রকম দোকান বসিয়ে ব্যবসা কার্যক্রম চালানো হয়। তাই এখানে কেউ গাড়ি নিয়ে এলেও টোল দিতে হয় পার্কিং ইয়ার্ডের নামে। এবার আরেকটি নতুন টোল চালু করতে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। ফলে কোনো পর্যটক গাড়ি নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে বেড়াতে এলে তাকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে দুবার টোল দিতে হবে। এ বিষয়ে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অনতিবিলম্বে এ টোল বাতিলের দাবি জানানো হয়।
সভার সভাপতি লৌহজং ইউএনও ফারজানা ববি মিতু দুটি টোল আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, এ রকম বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এটি বালিতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড এরফানুর রহমান, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান-উদ-দৌলা, লৌহজং থানার ওসি বোরহানুল ইসলাম, পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার ওসি আক্তার হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম মোল্লা, বিক্রমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুদ খান, লৌহজং প্রেস ক্লাবের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া, সাংবাদিক মিজানুর রহমান ঝিলু প্রমুখ।