শিক্ষার্থীদের বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ এএম

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশকে পরিচ্ছন্ন এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে আমি বাইরে একটি বৃক্ষরোপণ করেছি। আমার সঙ্গে সারা দেশে অনলাইনে ২৯ হাজার ৬০০ স্থান থেকে সংযুক্ত ছিল। প্রত্যেক জায়গায় আজকে তিনটি করে গাছ লাগানো হয়েছে। সব মিলিয়ে একদিনে প্রায় ৯০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার এমন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে, যাতে তোমরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠতে পারো। তোমরা আত্মবিশ্বাসী থাকলে আমিও আত্মবিশ্বাসী হবো। তার বিনিময়ে আমি একটি জিনিস চাই, প্রতি বছর প্রত্যেকে একটি করে গাছ রোপণ করবে। যেখানে থাকো, যেখানে খেলাধুলা করো, যে স্কুলে বা কলেজে পড়ো, সেখানকার কোনো এক জায়গায় প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে।’

বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশে আমাদের সবাইকে থাকতে হবে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নানা কারণে অনেক গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে। ফলে বাতাস দূষিত হয়ে গেছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে একসময় বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কি সবাই মিলে আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার রাখতে পারি না? শিক্ষার্থীরা ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, আমাদের আশপাশে কেউ যদি কোনো পাবলিক প্লেসে ময়লা ফেলে, আমরা তাকে বলব এটি অন্যায়। তাকে সচেতন করব যে, জনসমাগমস্থলে ময়লা ফেলা উচিত নয়। আমরা সবাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই। কিন্তু চেষ্টা না করলে বাংলাদেশ সুন্দর হবে কীভাবে? আমাদের সময় প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমার বয়স ৬০ হয়ে গেছে। এখন সময় তোমাদের। ভবিষ্যৎ তোমাদের। দেশ গড়ে তুলতে হবে তোমাদেরই।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের জন্য ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিভিন্ন শিক্ষপ্রতিষ্ঠানের স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওনের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ : গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা। প্রধানমন্ত্রী বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন সেবা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভিওনের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের সিইও ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত