একাধিক সংশোধনীসহ সংসদে অর্থবিল পাস

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পৌনে চার লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা এখন চার লাখ টাকা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একাধিক সংশোধনীসহ অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়। বিলটি পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংশোধনী আনার অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো হয়।

এ ছাড়া বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলায় কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে অর্থবিল পাস করা হয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি-ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অর্থবিলে সংশোধনী এনে এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে এবারের বাজেটে অর্থবিলের মাধ্যমে একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এটি কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, এমন সমালোচনার পর অর্থ বিল থেকে বিধানটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর বহাল রাখা হয়েছিল। অর্থবিলে তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অনলাইন ভিডিওভিত্তিক সেবা, সামাজিক মাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের ভ্যাট কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ৫০ পয়সা হারে উৎসে কর কাটার বিধান যুক্ত হয়েছে। মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ভ্যাট এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। চিংড়িশিল্প, ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

তবে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ বিধানের বাইরে থাকবে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূলধন বা বার্ষিক বিক্রি রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসংঘের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস-সংযোগ, মোবাইল আর্থিক সেবার মার্চেন্ট হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশ থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ের দায়িত্ব ব্যাংক ও অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া হয়েছে।

প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন দাখিলের বিধান করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির জন্য আলাদা সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথ উন্নয়ন চুক্তির আওতায় জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট, নগদ অর্থ বা অন্য সুবিধা পেলে সেটিকে মূলধনি প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করে কর আরোপের বিধান করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত