গত ২৪ জুন দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত ‘তারা কেন বিদ্যুৎ জ্বালানি বোর্ডে’ শীর্ষক খবরের বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অর্থায়ন ও ভর্তুকিতে পরিচালিত হওয়ায় সরকারের নীতি বাস্তবায়নের স্বার্থে সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
পরিচালক নিয়োগের ভিত্তি : কোম্পানির মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী সরকার, পেট্রোবাংলা, বিপিসি, বিদ্যুৎ বিভাগ বা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হিসেবে পরিচালক মনোনয়ন দেয়।
শেয়ারহোল্ডারের অধিকার : সরকার বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারধারী থাকা পর্যন্ত তাদের মনোনীত প্রতিনিধিরাই পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি : সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, হিসাববিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা প্রতিনিধি, মানবসম্পদ ও প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদেরও পরিচালক করা হয়।
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভূমিকা : জনপ্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয়, নিরীক্ষা ও নীতি বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বার্থে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্তি করা হয়।
তালিকাভুক্ত ও যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বা বেসরকারি বিনিয়োগ থাকা কোম্পানিতে শেয়ারহোল্ডারদের মনোনীত পরিচালক এবং স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় সুকৌশলে যেসব বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে : কোম্পানির পরিচালক হওয়ার অযোগ্যতার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি বিষয়ে ন্যূনতম পূর্ব-অভিজ্ঞতা বা সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ছাড়া কেবল আমলা হওয়াটাই কি বিভিন্ন সংস্থা বা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার মানদণ্ড? প্রতিবেদনে আমলাদের নিয়োগ দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়নি। প্রতিবেদনে কোম্পানির বোর্ডে আমলাদের সংখ্যা এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি বিষয়ে অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বের বড় সরকারি কোম্পানির বোর্ডের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন হওয়ায় এসব কোম্পানির বোর্ডে আমলাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, সরকারের প্রতিনিধি কি শুধু আমলারাই? সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের কেন বিবেচনা করা হবে না? মূল প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল কোম্পানিগুলোর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বোর্ডে পেশাজীবী, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সফল ব্যবসায়ীদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সব কোম্পানি নিজ দেশের বাইরেও কাজ করছে। সেখানে তো এমন আমলাদের আধিক্য নেই।
একজন ব্যক্তি কীভাবে নিজের পূর্ণকালীন চাকরি করার পাশাপাশি আট থেকে ১০টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বা পরিচালক হন? আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও একাধিক বোর্ডে দায়িত্ব পালন করায় কোম্পানির বোর্ডগুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রায়ই বিলম্বিত হয়।
অথচ, কোম্পানিগুলো গঠন করা হয়েছিল এই পরিকল্পনা নিয়ে যে, পরিচালনা পর্ষদগুলো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, কোম্পানির কৌশলগত ও ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জন করবে এবং সরকারের বাজেট সহায়তা ছাড়াই লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রথম দিকে এসব কোম্পানি লাভজনক হলেও বর্তমানে বেশির ভাগ কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে অত্যাধিক আমলানির্ভরতা এবং মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণই কি এর মূল কারণ?