কর্ণফুলী মহাসড়ক

অবৈধ হাটবাজার উচ্ছেদ করতেই হবে

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ এএম

সড়ক-মহাসড়কের পাশে বা ওপরে অবৈধ হাটবাজার স্থাপন করা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ও আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও আইনবিরুদ্ধ এই অপপ্রক্রিয়া যে থেমে নেই, ফের এ চিত্র উঠে এসেছে ৫ জুলাই দেশ রূপান্তরে। বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং এলাকায় টানেল সংযোগ সড়কের ওপর সপ্তাহের দুদিন বসছে অবৈধ হাট। ছয় লেনবিশিষ্ট মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ এ হাটের কারণে যানজট, জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ অবস্থা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই চিত্র যে শুধু কর্ণফুলী মহাসড়কে তা-ই নয়, দেশের প্রায় সর্বত্রই কমবেশি তা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে এ রকম কয়েকটি মহাসড়কের চিত্র উঠে এলেও এসব দেখভালের দায়দায়িত্ব যাদের তারা নির্বিকার!

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮ হাজার ৮৮৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ছোট-বড় ১০ হাজারের বেশি দোকান নিয়ে অন্তত ২৫০টিরও বেশি অবৈধ বা অস্থায়ী হাটবাজার গড়ে উঠেছে। এগুলো মহাসড়কে তীব্র যানজট, জনভোগান্তি এবং সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি, ২০২১ সালের মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, সড়কের দুই পাশের ১০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের হাটবাজার কিংবা স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হলেও তা যেন ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই’র মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি, নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সারা দেশের মহাসড়ক থেকে অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা এবং থ্রি-হুইলার  অপসারণে হাইকোর্টের রুল ও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন সড়ক-মহাসড়কে নৈরাজ্য?

আমরা প্রশ্ন তুলতে চাই, সরকারি বিভাগের স্ববিরোধী আইন বা বিধিমালা নিয়ে। সড়কের দুই পাশের ১০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের হাটবাজার কিংবা স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি বলা হলেও এর বিপরীত চিত্রও বিদ্যমান। ‘হাট ও বাজার আইন ২০২৩’ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন স্থানীয় প্রয়োজনে হাট অনুমোদন দিতে পারে। এই দুই আইনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলো কি দেবে? আমরা দেখছি, মাঝেমধ্যে উচ্ছেদের নামে কিছু কর্মকা- দৃশ্যমান হলেও এর স্থায়িত্ব খুব কম। এই উচ্ছেদ, এই আবার সেই দৃশ্য, কী বিস্ময়কর! কর্ণফুলী টানেল সংযোগ মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্যান মহাসড়কে যে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে এর দায়দায়িত্বশীলদের এড়ানোর অবকাশ নেই।

কর্ণফুলী মহাসড়কের বিদ্যমান অবস্থা নিয়ে স্থানীয় দায়িত্বশীলরা দেশ রূপান্তরের কাছে যে বক্তব্য রেখেছেন তা দায়সারা গোছের। আমাদের বক্তব্য, মহাসড়কের ওপর বা নিয়ন্ত্রণরেখার মধ্যে হাটবাজার বসানোর পেছনে যারা কলকাঠি নাড়েন তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার। একই বিষয়ে সাংঘর্ষিক বিধিবিধানের নিরসনও সমভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। কর্ণফুলী মহাসড়কে তো বটেই, সব সড়ক-মহাসড়কেই আইনের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। টেকসই উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার স্বার্থে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের যথাযথ প্রয়োগের বিকল্প নেই। কারণ জানা, অথচ দৃষ্টান্তযোগ্য কোনো প্রতিবিধান নিশ্চিত হয় না, এর চেয়ে বিস্ময়কর আর কী হতে পারে! মানুষের জীবনরক্ষায় সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। আমরা সড়ক পরিবহন আইনের কার্যকারিতা এবং সুফল দেখতে চাই।

সড়ক-মহাসড়কের যে মর্মস্পর্শী চিত্র প্রায় প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একেকটি ঘটনা ঘটছে তারপর সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-পর্যালোচনার ঝড় ওঠে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নড়েচড়ে বসেন কিন্তু সময় যেতে না যেতেই আবার পরিস্থিতি একই। এ নিয়ে কথা হয়েছে বিস্তর, এবার আমরা কাজের কাজ দেখতে চাই। অবকাঠামোগত ত্রুটি-বিচ্যুতি সারাতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু নীতি-নৈতিকতার প্রতিফলন একই সঙ্গে আইনের বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ কেন হবে, আমরা এ প্রশ্নও রাখি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত