‘প্লে-ব্যাক কিং’ তকমা পাওয়া বাংলা গানের ধ্রুবতারা কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ । ২০২০ সালের ৬ জুলাই কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আট বারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এন্ড্রু কিশোর । তার প্রয়াণ দিবস নিয়ে গতবারের মতো এবারও কোনো আয়োজন নেই দেশের সংগীতাঙ্গন কিংবা সিনেমা অঙ্গনেও। তবে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবারই এন্ড্রু কিশোরের জন্মস্থান রাজশাহীতে স্মরণসভার আয়োজন করে রাজশাহী প্রেস ক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
প্রখ্যাত এই শিল্পী নিজের অসামান্য জনপ্রিয়তা ও খ্যাতির পরও সবসময় বিনয়ী ও মাটির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করতেন। অগণিত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার পরও তার স্বভাব ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। সহকর্মী ও ভক্তদের সঙ্গে সবসময় অমায়িক ব্যবহার করতেন এবং অহংকার তার ধারে-কাছেও ছিল না । প্রচার বা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের কাজ, অর্থাৎ গান নিয়ে থাকতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এন্ড্রু কিশোরই একমাত্র গায়ক, যিনি গানের ক্ষেত্রে কোনো বাছ-বিচার করেননি। এমনকি তার দ্বৈত গানে তার সঙ্গে কে গাইবেন এমন প্রশ্নও তোলেননি কোনো দিন। তার গানের সংখ্যা কত, সেটাও তিনি বলতে পারেননি। তবে অডিও বিশ্লেষকদের ধারণা, কমপক্ষে দেড় হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই তারকা। তবে সিনেমাতেই তিনি গেয়েছেন ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময়। সেগুলোর বেশিরভাগই জনপ্রিয়। এ জন্যই তাকে বলা হয় ‘প্লে-ব্যাক সম্রাট’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি রাজশাহী বেতারে নজরুল, রবীন্দ্র, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান শাখায় তালিকাভুক্ত হন। চলচ্চিত্রে তার প্রথম গান মেইল ট্রেন (১৯৭৭) চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই’। তিনি বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২) চলচ্চিত্রের ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বিভাগে তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি সারেন্ডার (১৯৮৭), ক্ষতিপূরণ (১৯৮৯), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১), কবুল (১৯৯৬), আজ গায়ে হলুদ (২০০০), সাজঘর (২০০৭) ও কি যাদু করিলা (২০০৮) চলচ্চিত্রের গানের জন্য আরও সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার ও দুইবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।
জীবনের এক পর্যায়ে এসে শারীরিক জটিলতায় ভোগেন এন্ড্রু কিশোর। অসুস্থতার জন্য ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এন্ড্রু কিশোরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ধরা পড়ে ক্যানসার। সেখানে তিনি কয়েক মাস চিকিৎসা নেন। পরে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিলে তাকে নিজের ইচ্ছেতেই ২০২০ সালের ২০ জুন রাজশাহীতে আনা হয়। এরপর তিনি মহানগরীর মহিষবাথানে বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় বসবাস শুরু করেন। ৬ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।