বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।
সোমবার (০৬ জুলাই) সকাল থেকে দিনব্যাপী নগরীর আকবরশাহ, মতিঝর্ণা, বাটালি হিলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করায় পাহাড়ধসের এই আশঙ্কা বহুলাংশে বেড়ে গেছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীকে ৫টি জোনে ভাগ করে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নেতৃত্বে বিশেষ দল মাঠে নামানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ভলান্টিয়াররা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসে নিরুৎসাহিত করতে এবং পাহাড়ধসের দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি এখনো বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় নগরীর সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের আশ্রয়কেন্দ্র ও দ্বিতল স্কুল ভবনগুলোকে প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা নাগরিকদের জন্য শুকনো ও রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রে সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় নগরীর কয়েকটি সড়কে অল্প সময়ের জন্য পানি জমলেও কোথাও জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি।
কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার দুয়েকটি স্থানে এবং প্রবর্তক মোড়ের একাংশে পানি জমলেও পরে ওই এলাকাগুলোর নালায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে নিলে পানি সরে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর মনিটরিংয়ের কারণে এবার চট্টগ্রামে টানা বর্ষণেও জলাবদ্ধতা হয়নি বলে দাবি করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করছেন। তিনি চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থাকে নিয়ে কাজ করার জন্য একটি শক্তিশালী কমিটিও করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী উদ্যোগ ও নির্দেশনার কারণেই টানা বৃষ্টিতেও এবার নগরীতে জলজট হয়নি।
আগ্রাবাদ আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান দেশ রুপান্তরকে বলেন, এই বৃষ্টিপাত আরও সপ্তাহখানেক ধরে থাকবে। মাঝেমধ্যে কমে আবার বাড়বে।