বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন, ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা। গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ দাবি করেন। রাজধানীর ডিসিসিআই নিউ ধানমন্ডি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় ১৫টি ব্যবসায়ী সমিতির নেতাসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা সামগ্রিক অর্থনীতি এবং চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ব্যবসা পরিচলন ব্যয় হ্রাস, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সরকারী সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অটোমেশন প্রবর্তন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ করাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
এতে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) নুসরাত ফারজানা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (পশ্চিম) অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম বিভাগ) মো. তারেক জুবায়ের এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের বিক্রয় বা টার্নওভার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক ব্যবসা প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ৫ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে, রাজস্ব আহরণে বড় লক্ষ্যমাত্রা এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করছে, যা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে জানান।