সৃজনশীল অর্থনীতির (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) বিকাশে শুধু অবকাঠামো নয়, কার্যকর নীতিও প্রয়োজন বলে মনে করেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। গতকাল শনিবার পিপিআরসির আয়োজনে ‘আজকের এজেন্ডা : ক্রিয়েটিভ ইকোনমি- সেøাগান নাকি সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এতে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তা তানিম নূর, চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, নাট্যকার ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন এবং ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম অংশ নেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে শুধু অবকাঠামো নয়, কার্যকর নীতি কাঠামোও প্রয়োজন। করনীতি, কপিরাইট সুরক্ষা, রয়্যালটি বণ্টন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে সৃজনশীল প্রতিভার অভাব নেই। তবে নীতি সহায়তা, উপযোগী কর কাঠামো, কপিরাইট সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে এ খাত এখনো বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারেনি।
আলোচকরা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির (ক্রিয়েটিভ বা অরেঞ্জ ইকোনমি) জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জিডিপিতে সৃজনশীল খাতের অবদান বাড়ানো, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্রান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তানিম নূর বলেন, সৃজনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আলাদা করনীতি প্রয়োজন। চলচ্চিত্র শিল্পে কর সুবিধা দেওয়া হলে দেশীয় সিনেমায় বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন বিনিয়োগকারীরাও এ খাতে আগ্রহী হবেন।
রেদওয়ান রনি বলেন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের উন্নয়নে অবকাঠামো, করনীতি ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। নির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বৈষম্যের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশি দর্শকদের কাছ থেকে আয় করলেও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো একই ধরনের বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই।
লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিভাবান মানুষের অভাব নেই। তবে তাদের বিকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। শুধু শিল্পীদের নয়, সৃজনশীল খাতের সঙ্গে যুক্ত বিপুল কর্মীবাহিনীর বিষয়েও নজর দিতে হবে।
বাকার বকুল বলেন, বাংলাদেশে নাটক ও শিল্পকলাকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পণ্য হিসেবে দেখা হয় না। দীর্ঘদিন ধরে এসব খাত ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও আগ্রহের ওপর নির্ভর করে চলছে। পেশাদার ও টেকসই শিল্প খাত গড়ে তুলতে শিল্পীদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশনা খাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। জাতীয় গ্রন্থনীতি আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বই তুলে ধরা এবং কপিরাইট আইন কার্যকর করা জরুরি। ডিজিটাল ও মুদ্রিত বইয়ের পাইরেসি প্রকাশনা শিল্পের বড় সমস্যা।
তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে মান নিয়ন্ত্রণ, সনদায়ন ও শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন।